গাজা উপত্যকায় আবারও ভয়াবহ ইসরায়েলি বিমান হামলা। একদিনেই অন্তত ৩২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর হওয়ার পর এটিকেই সবচেয়ে বড় হামলা বলছেন ফিলিস্তিনিরা।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় ভোর থেকে গাজা উপত্যকার উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল।
গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত একটি তাঁবুতে হেলিকপ্টার গানশিপ থেকে হামলা চালানো হয়। এতে একই পরিবারের সাতজন নিহত হন।
গাজা শহরের শিফা হাসপাতাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, একটি আবাসিক ভবনে হামলায় তিন শিশু ও দুই নারী নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) হামাসের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। আইডিএফ জানায়, পূর্ব রাফাহ এলাকায় ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো লুকিয়ে থাকা ‘সন্ত্রাসীদের’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে, হামাস এসব হামলাকে ‘গণহত্যামূলক যুদ্ধের ধারাবাহিকতা’ বলে আখ্যা দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
হামলার নিন্দা জানিয়েছে মিসর ও কাতার। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। যুদ্ধবিরতির অন্যতম মধ্যস্থতাকারী কাতারও ইসরায়েলের বারবার চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।
এর আগে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে এই রক্তক্ষয়ী হামলা গাজায় শান্তি ফেরার সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে বলে দাবি বিশ্লেষকদের।এদিকে আজ রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় খোলার কথা রয়েছে। তবে চলমান সহিংসতায় মানবিক পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply