গেল সোমবার বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের দাম আউন্স প্রতি সর্বোচ্চ সাড়ে ৫ হাজার ডলার ছুঁয়েছিলো, আবার হঠাৎ করেই কমেছে দাম। স্বর্ণের দামের এই অস্থিরতা নিয়ে বিশ্ববাসীর আগ্রহের কমতি নেই। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির কারণ জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিবিসির রিপোর্টে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির ৩টি কারণ উঠে আসে।প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানু্যায়ী এর অন্যতম কারণ ট্রাম্পের অনিশ্চিত সিদ্ধান্তে বিনিয়োগ পরিবর্তন। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। কোনো কারণে অপছন্দ হলেই তাদের ওপর অস্বাভাবিক শুল্ক আরোপ করছেন ট্রাম্প। এটি বিনিয়োগকারীদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার ফলে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে এই মূল্যবান ধাতুর দিকে ঝুঁকছে। যা বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের উত্থানকে ত্বরান্বিত করেছে।
দ্বিতীয় কারণ হিসেবে বলা হয়েছে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ এবং গ্রিনল্যান্ডকে নিয়ে হুমকি। ইউক্রেন ও গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক সময়ে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া, বিশ্বে একটি রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। যা স্বর্ণের দামকে নতুন উচ্চতায় নিয়েছে।
পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডকে নিয়ে ট্রাম্পের হুমকি তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে অবিশ্বাস তৈরি করেছে। যা বিনিয়োগকারীদের বিকল্প নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ধাবিত করছে। হারগ্রেভস ল্যান্সডাউন-এর প্রধান বিনিয়োগ কৌশলী এমা ওয়াল বলেন, বিশ্বে অস্থিরতার সময় স্বর্ণের এমন দাম বৃদ্ধি স্বাভাবিক।
স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির তৃতীয় কারণ হিসেবে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণক্রয়। স্বর্ণের দাম বৃদ্ধিতে অন্যতম ভূমিকা রাখে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণক্রয়। আবার ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হবার পর রাশিয়ার ডলারের সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়া বিভিন্ন দেশকে ডলারের বিকল্প হিসেবে স্বর্ণের রিজার্ভ বাড়াতে আগ্রহী করেছে। যা স্বর্ণের দাম বৃদ্ধিতে একটি বড়ো ভূমিকা রাখছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান নির্ধারণ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা এবারের স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে, যখন নিশ্চিত হয় ট্রাম্প কেভিন ওয়ার্শকে মনোনয়ন দেবেন, তার পরপরই স্বর্ণের দাম আবার কমে যায়।
Leave a Reply