পারভেজ আহমদ :::: আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় সিলেটের হাওড়াঞ্চলের কৃষকদের চোখে এখন ঘুম নেই। দিগন্তজোড়া মাঠ সোনালি ধানে ভরে উঠলেও মনে নেই স্বস্তি একটুখানি দেরি মানেই সারা বছরের স্বপ্ন ভেসে যাওয়ার শঙ্কা। আবহাওয়া অধিদফতর ও বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের সতর্কবার্তার পর তাই ঝুঁকি না নিয়ে আধাপাকা ধানই কেটে ঘরে তুলতে মাঠে নেমেছেন হাজারো কৃষক।
দিন-রাত একাকার করে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে ধান কাটার ব্যস্ততা। প্রকৃতি সহনশীল থাকলে এবং দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে পারলে প্রান্তিক কৃষকদের বছরের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এমন আশাতেই চলছে নিরলস শ্রম। তবে আকাশে মেঘের গর্জন আর ঢলের আশঙ্কা যেন প্রতিনিয়ত তাড়া করে ফিরছে কৃষকদের।
সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, জেলার হাওড়াঞ্চলের প্রায় ৩৭ হাজার ৬২৬ হেক্টর জমির অর্ধেকের বেশি ধান ইতোমধ্যে কাটা শেষ হয়েছে। দ্রুত ধান কাটতে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। এ বিষয়ে সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান বলেন, বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই অবশিষ্ট ধান নিরাপদে ঘরে তোলা সম্ভব হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সিলেট জেলায় প্রায় ৮৮ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে, যার বড় অংশই হাওড়াঞ্চলে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যেকোনো সময় উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। এ শঙ্কায় পূর্ণ পাকার অপেক্ষা না করেই কাস্তে হাতে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা।
দমদমা গ্রামের কৃষক কামাল মিয়া বলেন, “মেঘ দেখলেই ভয় লাগে। গত কয়েক বছরের বন্যায় আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এবার ধান ভালো হয়েছে, কিন্তু পুরোপুরি পাকানোর সুযোগ পাচ্ছি না। তাই ঢল আসার আগেই আধাপাকা ধান কেটে ফেলছি।”
একই গ্রামের কৃষক আনোয়ার মিয়া বলেন, “পাহাড়ি ঢল নামলে হাওড় ডুবতে সময় লাগে না। আধাপাকা ধান কাটলে চাল কিছুটা শক্ত হয়, কিন্তু কিছুই না পাওয়ার চেয়ে এটা ভালো। পরিবারের সবাই মিলে এখন ধান কাটা, মাড়াই আর শুকানোর কাজে ব্যস্ত।”
হাওড়পাড়ের কৃষকদের একটাই লক্ষ্য বন্যার আগেই যেন কষ্টের ফসল নিরাপদে গোলায় তোলা যায়। প্রকৃতির অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করে চলা এই সংগ্রাম যেন এখন সময়ের বিরুদ্ধে এক অসম যুদ্ধ।
Leave a Reply