বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :::ছাতকে যাওয়ার পথে কৌশলে বাড়িতে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন; ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা, তিন আসামি পলাতক
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় ছাতকে যাওয়ার পথে অটোরিকশায় তুলে এক নারীকে কৌশলে নির্জন বাড়িতে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং একজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুল এলাকা থেকে ছাতকে যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা রিজার্ভ করেন ভুক্তভোগী নারী। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশার চালক সাইদুর রহমান (৩০) তাকে নির্ধারিত গন্তব্যে না নিয়ে কৌশলে বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের আলমনগর গ্রামের একটি বসতঘরে নিয়ে যান।
সেখানে আগে থেকেই অবস্থানরত কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে মিলে তাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল হিসেবে আলমনগর গ্রামের মন্তাজ আলীর বসতঘরের কথা উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে ভুক্তভোগী নারী বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে হায়াতেরগাঁও গ্রামের মৃত ছিদ্দেক আলীর ছেলে গয়াছ মিয়া গেদা (৪৪)-কে। এছাড়া সাইদুর রহমান (৩০), আলমনগর গ্রামের আশিক মিয়া (৩০) এবং বটতলা গ্রামের আমির আলী (২৮)-কে আসামি করা হয়েছে। আরও একজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি রাখা হয়েছে।
মামলার পর অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি গয়াছ মিয়া গেদাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। বাকি তিন নামীয় আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।
এদিকে, ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এ ঘটনায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে চিকিৎসার জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং পলাতক আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
Leave a Reply