জানা গেছে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। প্রায় তিন দশকের অভিজ্ঞতা নিয়ে সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এই থানার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ উছমান গনি শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার পূর্ব চিথলীয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর পিতা মো. মুনসুর আলী। ১৯৯৬ সালের ১০ মার্চ বাংলাদেশ পুলিশে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ৪ মাসের চাকরিজীবনে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি জৈন্তাপুর থানায় ওসি (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
শিক্ষাজীবনেও তিনি কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। ঢাকার অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক পুত্র সন্তানের জনক।
সীমান্তঘেঁষা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে মাদক, চোরাচালান, অবৈধ পাথর উত্তোলন, জুয়া ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত। এমন বাস্তবতায় অভিজ্ঞ এই কর্মকর্তার পদায়নকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
নবপদায়নপ্রাপ্ত ওসি মোহাম্মদ উছমান গনি বলেন, “কোম্পানীগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব। মাদক, জুয়া, চোরাচালানসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে থাকবে জিরো টলারেন্স। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রধান অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, সুধীজন ও সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি। পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত কোম্পানীগঞ্জ গড়ে তুলতে চাই।”
এদিকে নতুন ওসির পদায়নকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, তাঁর নেতৃত্বে কোম্পানীগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে এবং সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান, অবৈধ পাথর উত্তোলনসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জনগণবান্ধব পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনেও তিনি সফল হবেন বলে আশা করছেন তারা।
Leave a Reply