সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা পদে লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সিসিকের সাবেক মেয়র শেখ রেহানার ঘণিষ্টজন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেও সেই চুক্তির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেলেও এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন একলিম আবদীন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কিসের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে কিভাবে তিনি বহাল তবিয়তে থাকেন সেই বিষয়টি নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর কিছুদিন গা ঢাকা দিয়েছিলেন একলিম আবদীন। সিটি করপোরেশনে দেখা মিলেনি তার। তবে হঠাৎ করেই আবার সিটি করপোরেশনে স্বপদে বহাল থাকতে দেখা যায় তাকে। বিষয়টি নিয়ে খোদ সিটি করেপারেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও নানা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এমনকি কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন বা চুক্তি নবায়ন ছাড়াই তিনি গত ২১ মাসেরও বেশি সময় ধরে এই পদে আসীন থেকে বেতন-ভাতাসহ সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছেন। তবে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসক এই নজিরবিহীন অনিয়ম ও জালিয়াতির বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলে মনে করেন সচেতন মহল।
এই গুরুতর প্রশাসনিক অপরাধ ও অনিয়মের বিষয়টি নজরে আসার পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ২৩ মে ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘সিটি কর্পোরেশন-১ শাখা’ থেকে উপসচিব মো. সগীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে (স্মারক নং- ৪৬.০০.০০০০.০৭০.২৯.২৮৬.১৩-৪১৫) তার কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের স্মারকপত্রে উল্লেখ করা হয়, লেঃ কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন সিলেট সিটি কর্পোরেশনে প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা পদে ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে কোনো আইনি ভিত্তি বা কার আদেশে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি উক্ত পদে বহাল রয়েছেন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন, তার কোনো বৈধ প্রজ্ঞাপন বা দাপ্তরিক নথি স্থানীয় সরকার বিভাগে নেই। আইন ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের কোনো অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘদিন সরকারি পদ দখল করে রাখা এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে সুযোগ-সুবিধা নেওয়া স্পষ্টতই ফৌজদারি অপরাধ। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী এটি প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের শামিল। এছাড়া সামরিক বাহিনী থেকে সাজাপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তি কীভাবে প্রশাসনিক পদে বহাল থাকেন সেটিওতদন্তের দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য না করে বলেন, ‘এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য দিতে পারবেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিও) অথবা প্রশাসক মহোদয়।’ সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজা-ই রাফিন সরকার বলেন, ‘একলিম এখনো চুক্তিতেই আছেন। কারণ তাকে যখন নিয়োগ দেয়া হয়, তখন চুক্তির নির্দিষ্ট কোন মেয়াদ ছিল না।’ এছাড়া মন্ত্রণালয়ে এ বিষযটি নিয়ে শুনানি হয়েছে বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply