পারভেজ আহমদ :::: সিলেটে শীতের প্রকোপ অনেকটাই কমে এসেছে। এখনো শীত মৌসুম চললেও গরমের মতো বিদ্যুৎ ব্যবহার নেই। ফ্যান কিংবা এসির ব্যবহারও তুলনামূলকভাবে কম। অথচ এমন সময়েও সিলেটে চলছে গ্রীষ্মকালীন মাত্রার লোডশেডিং, যা চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার নগরের জিন্দাবাজার এলাকায় কয়েক দফায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। একই অবস্থা নগরের বেশিরভাগ এলাকায়। পুরো মাসজুড়েই দিনে দফায় দফায় লোডশেডিং হচ্ছে। প্রতিবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর ঘণ্টাখানেক বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এতে ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন কাজকর্ম, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য।
শীত মৌসুমে সাধারণত বিদ্যুতের চাহিদা কমে আসে। তবুও কেন সিলেটে এত ঘন ঘন লোডশেডিং—এ প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদির বলেন, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে সিলেটে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১২০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭০ থেকে ৭৫ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকছে।
শীতকালেও কেন এত বড় ঘাটতি এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে সংস্কারকাজ চলছে। পাশাপাশি গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। জ্বালানি সংকটের কারণে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।
আব্দুল কাদির আরও জানান, সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৩ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ১০ হাজার মেগাওয়াট।
তবে পরিস্থিতি উন্নতির আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। বলেন, বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
এদিকে দ্রুত লোডশেডিং নিরসনের দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী। তাদের আশা, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং স্বস্তি ফিরবে জনজীবনে।
Leave a Reply