পারভেজ আহমদ::: সিলেট নগরজুড়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রকাশ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, ফুটওভার ব্রিজ, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি, সড়ক বিভাজক, এমনকি যানবাহনেও শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও পিভিসি বিলবোর্ড যা সরাসরি আচরণবিধি পরিপন্থী।
নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর আগেই এসব অনিয়ম শুরু হয়। গত ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলেও তার আগেই তফশিল ঘোষণার পর আচরণবিধি উপেক্ষা করে প্রচারে নামেন একাধিক প্রার্থী। প্রচারের সময়সীমা ঘোষণার পর এসব লঙ্ঘন আরও বেড়েছে। তবে নগরজুড়ে এমন প্রকাশ্য অনিয়ম যেন নজরেই পড়ছে না নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের।
ভোটের আর মাত্র ১১ দিন, বাড়ছে অনিয়ম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বাকি আর মাত্র ১১ দিন। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনাও।
আচরণবিধিতে কী বলা আছে
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো অপচনশীল উপাদান—যেমন পলিথিন, প্লাস্টিক বা পিভিসি দিয়ে তৈরি ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেট কিংবা বিলবোর্ড ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া কোনো দালান, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি, সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের স্থাপনা এবং বাস, ট্রাক, রিকশা, সিএনজি, অটোরিকশাসহ কোনো যানবাহনে প্রচার সামগ্রী সাঁটানো যাবে না।
কারা কীভাবে বিধি লঙ্ঘন করছেন
শনিবার সরেজমিনে সিলেট-১ আসনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়
বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুমন রিকাবীবাজার, বন্দরবাজার, চৌহাট্টা, শাহী ঈদগাহ ও ওসমানী মেডিকেলসহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটওভার ব্রিজে বড় আকারের রঙিন পিভিসি বিলবোর্ড সাঁটিয়েছেন।
বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির নগরীর প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পিভিসি ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপন করেছেন। পাশাপাশি সিএনজি অটোরিকশায়ও রঙিন পোস্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি, সড়ক বিভাজক ও গাছে ব্যানার-ফেস্টুন সাঁটিয়েছেন।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান নগরীর বিভিন্ন সড়ক বিভাজকে পিভিসি ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়েছেন।
সিলেট-১ আসনের প্রায় সব প্রার্থীই ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড ব্যবহারে আচরণবিধি মানছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
আইনে শাস্তির বিধান থাকলেও প্রয়োগ নেই
নির্বাচন কমিশনের বিধিমালায় আচরণবিধি লঙ্ঘনকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসারের জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। তবে সিলেটে এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার নজির নেই।
সুশাসনের জন্য নাগরিকদের ক্ষোভ
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেট জেলা সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন,
“ঘর থেকে বের হলেই যে কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘনের চিত্র দেখতে পাচ্ছেন। বিদ্যুৎ খুঁটি, গাছ, সড়ক বিভাজক, যানবাহন—সবখানেই ব্যানার-ফেস্টুন। অথচ আজ পর্যন্ত কোনো প্রার্থীকে শোকজ করা হয়েছে বলে শুনিনি।”তিনি আরও বলেন,“যদি প্রশাসনের কর্মকর্তারা দপ্তরের বাইরে বের হতেন, তাহলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আশপাশেই অসংখ্য অনিয়ম দেখতে পেতেন। আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রশাসনের এমন নিরব ভূমিকা জনমনে নির্বাচন নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে।”
দায়িত্ব এড়ানোর পালা-পালি
এ বিষয়ে আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস সিলেটের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দেখছেন
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাঈদা পারভীন জানান, বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দেখেন।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
Leave a Reply