রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন

নোটিশ :
Welcome To Our Website...
শিরোনাম :
সিলেটে ‘মৃত্যুফাঁদ’ হাজারো স্পিডব্রেকার সড়ক আইনকে তোয়াক্কা না করেই খেয়ালখুশি মতো নির্মাণ মুসল্লি ও মুরব্বিদের সাথে কুশল বিনিময় ‘সিউকের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে’: কয়েস লোদী কালীঘাট বাজারে চোরাই পণ্যের সিন্ডিকেটের অভিযোগ: রঞ্জু-পরভেজের দৌরাত্ম্যে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার আমি না থাকলে ইসরায়েল চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যেত: ট্রাম্প কিংবদন্তি হকি তারকা আবদুস সাদেক আর নেই মুখ ঢেকে কথা বলায় ইতিহাসের প্রথম লাল কার্ড রোহিঙ্গাদের জন্য আরও জমি চাইল জাতিসংঘ, বাংলাদেশের ‘না’ চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ২৬ জুন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান হলেন ব্যরিস্টার সালাম শ্রীরামচন্দ্রের অবমাননার প্রতিবাদে সিলেটে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ নগরীতে পুলিশি অভিযানে আটক ১২৫ গোলাপগঞ্জে দুই অনলাইন জুয়াড়ি গ্রেফতার সিলেটে ২৪ ঘন্টায় রেকর্ড বৃষ্টিপাত সিলেটে আ’লীগের কার্যক্রম ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে পুলিশ মৌলভীবাজারে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠান শুরু কোম্পানীগঞ্জ বিক্রয় প্রতিনিধি কল্যাণ পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন; সভাপতি বাবুল ও সম্পাদক আশরাফুল ঋণের বোঝায় প্রাণ যায় যায় ১২ চা বাগানের শাহজালাল (রহ.) মাজারের ডেগ সিলগালা: দীর্ঘদিনের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন বিতর্ক নগরীতে আ.লীগের মিছিল, ছাত্রলীগের আরেক নেতা গ্রেফতার অনলাইন জুয়ার আস্তানায় র‌্যাবের অভিযান, আটক ৯ গোয়াইনঘাটে সাড়ে ২২ লাখ ঘনফুট বালুর নিলাম ২৪ জুন গোলাপগঞ্জে অস্ত্রসহ উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক উদ্ধার হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেটে আরও ২ শিশুর মৃত্যু মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও মাজারে মাদকের আসর বন্ধে নির্দেশনা কোম্পানীগঞ্জ-ছাতক সড়ক প্রশস্তকরণে অংশীজন সভা; দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জুড়ীতে পরকিয়ার জেরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী আটক শাহজালালের মাজারের দানের ডেগ সিলগালা মোগলাবাজারে বারবার কারা নির্যাতিত বিএনপি নেতা সামছুল ইসলাম টিটুকে সংবর্ধনা প্রদান কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে পুলিশের অভিযান: ফেনসিডিলসহ আটক ২ নারী সিলেটে নিষিদ্ধ ঘোষিত আ.লীগের ঝটিকা মিছিল, ৬৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ঋণের বোঝায় প্রাণ যায় যায় ১২ চা বাগানের

ঋণের বোঝায় প্রাণ যায় যায় ১২ চা বাগানের

সবসময় ডেস্ক ::: চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি)। টানা লোকসান, ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজারজাতকরণে অদূরদর্শিতার কারণে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। 

একই সঙ্গে সিলেট অঞ্চলের জগদীশপুর, তেলিয়াপাড়া, চন্ডিছড়া, পারকুল, মাধবপুর, প্রেমনগর, বিজয়া, পাত্রখোলা, চাম্পারাই, মদনমোহনপুর ও লাক্কাতুরাসহ ১২টি চা বাগানের কয়েক হাজার শ্রমিকের জীবন-জীবিকা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আর্টিজান চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এনটিসির আর্থিক দুরবস্থার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ধারাবাহিকভাবে লোকসানে রয়েছে কোম্পানিটি। ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এনটিসির পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩৯ কোটি ৯ লাখ টাকা। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদি ঋণের বোঝা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪৩ কোটি ২৮ লাখ টাকায়। বর্তমানে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ঋণাত্মক ১৪৪ দশমিক ৯৭ টাকা, যা কোম্পানির আর্থিক অবস্থার গভীর সংকটেরই ইঙ্গিত দেয়।

বাগান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েক বছরে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি ছাড়াও বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সার, কীটনাশক ও যন্ত্রপাতির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কিন্তু উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চায়ের বাজারমূল্য বাড়েনি। এছাড়া উৎপাদিত চা চট্টগ্রাম নিলাম কেন্দ্রে নিয়ে বিক্রি করতে গিয়ে পরিবহন ও গুদামজাতকরণে বাড়তি ব্যয়ের চাপ সইতে হচ্ছে কোম্পানিকে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চায়ের অবস্থান এখনও সীমিত। ফলে রপ্তানি সম্ভাবনা থাকলেও কাঙ্ক্ষিত বাজার সম্প্রসারণ হচ্ছে না। মৌসুমের শুরুতে চায়ের দাম কিছুটা ভালো থাকলেও পরে তা কমে যায়, যা উৎপাদকদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করে।

চন্ডিছড়া চা বাগানে ন্যাশনাল টি কোম্পানি উৎপাদিত চায়ের প্রায় ২৫ শতাংশ নিজস্ব ব্র্যান্ডে প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করছে। তবে শক্তিশালী বিপণন নেটওয়ার্ক ও আধুনিক বিপণন কৌশলের অভাবে এ খাতে প্রত্যাশিত সাফল্য আসছে না। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিপণন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা গেলে বিক্রি বাড়ানো সম্ভব। বিপণন বিভাগের লোকজন কাজে আন্তরিকতা নন।

এদিকে চলতি বছর অতিবৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চা উৎপাদনও কমে গেছে। অনেক বাগানে পাতা সংগ্রহ ব্যাহত হয়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরে লোকসান আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও চা শিল্পের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এনটিসির ১২টি চা বাগানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক ও কর্মচারী জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সংকটে পড়ে কার্যক্রম সংকুচিত বা বন্ধ হয়ে গেলে হাজারো শ্রমিক পরিবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। চা বাগানকেন্দ্রিক স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিশ্লেষকদের মতে, ঋণ পুনঃতফসিল, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বিপণন সম্প্রসারণ, রপ্তানি বাজার বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দাঁড়াতে পারে। একই সঙ্গে সরকার সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা ও নীতিগত সহায়তা দিলে চা বাগানগুলো পুনরায় লাভজনক হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এনটিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল হাসান বলেন, “সব বাগানে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং চায়ের গুণগত মান উন্নয়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা আশাবাদী, ধীরে ধীরে লোকসান কমিয়ে এনটিসির বাগানগুলোকে আবারও সোনালি সময়ে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হব”।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2023 shobshomoy.com
Design BY Web Nest BD
shobshomoy.com