স্টাফ রিপোর্টার :::সিলেটের পরিবহন খাতে প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং ২০১২ সালের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগ মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে আলোচিত শ্রমিক নেতা আবু সরকারকে ঘিরে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলালেও তিনি এখনো পরিবহন খাতে প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। এতে সাধারণ যাত্রী, পরিবহন মালিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় টিলাগড় গ্রুপের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে আবু সরকার পরিবহন শ্রমিক রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় বিভিন্ন ইস্যুতে আকস্মিক পরিবহন ধর্মঘট ডেকে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা হতো।
২০১২ সালের ৮ জুলাই সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘর্ষের জেরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শতবর্ষী ছাত্রাবাসের ৪২টি কক্ষ পুড়ে যায়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে আদালতে দাখিল করা বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ২৯ জনকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ওই প্রতিবেদনে আবু সরকারের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এদিকে, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগেও আবু সরকারের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। ২০১৯ সালে ভোলাগঞ্জ, তামাবিল ও জাফলং থেকে আসা মালবাহী ট্রাক থেকে ওভারলোডের অজুহাতে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ট্রান্সপোর্ট মালিক গ্রুপের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. সাহেদুর রহমান ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর আবু সরকারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা (সিআর মামলা নং-৩৩৬/২০১৯) দায়ের করেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আবু সরকারসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে ২০২০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সিলেট চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (৩য় আদালত) তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই মামলা দায়েরের পর বাদীর বিরুদ্ধেও পাল্টা একটি মামলা করা হয়েছিল।
সম্প্রতি পরিবহন শ্রমিক হত্যার বিচার দাবিতে ডাকা পরিবহন ধর্মঘটেও আবু সরকারের নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে ধর্মঘটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা হয়েছে এবং পরিবহন খাতকে প্রভাবের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আবু সরকারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, পরিবহন খাতে যদি কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব বা আইনবহির্ভূত কার্যক্রম থেকে থাকে, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তারা সিলেটের পরিবহন খাতে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
Leave a Reply