সবসময় ডেস্ক :::হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় বাঁধটি ভেঙে গেলে মুহূর্তেই প্রবল স্রোতে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে বন্যার পানি। কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আগেই খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
বাঁধ ভাঙার পর নোয়াবাদ, চরহামুয়া, সুঘর, বনগাঁও, নতুন বাজার, বালিহাটা, কালীগঞ্জ, যাদবপুর, বিষ্ণুরামপুর, দক্ষিণচর, রামনগর, ধোপাখাল ও বনদক্ষিণ এলাকার একাংশসহ অন্তত ১৫টি গ্রামে দ্রুত পানি ঢুকে পড়ে। অনেক বাড়িঘরে কোমরসমান পানি উঠে যায়। শহরের কামড়াপুর ও দানিয়ালপুরসহ কয়েকটি এলাকাতেও পানি প্রবেশ করেছে। আতঙ্কিত মানুষ গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকেন। কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে, আবার কেউ আশ্রয় নেন স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে বানিয়াচং উপজেলার রাধাপুর এলাকায় খোয়াই নদীর আরেকটি বাঁধ ভেঙে হাওরে প্রবল বেগে পানি ঢুকে পড়ে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, খোয়াই নদীর চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৯২ সেন্টিমিটার, শায়েস্তাগঞ্জ পয়েন্টে ১১৩ সেন্টিমিটার এবং মাছুলিয়া পয়েন্টে ১৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। তবে সন্ধ্যার পর থেকে নদ-নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবুও জেলার দুটি স্থানে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আবু জাহেরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
পরে স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে মাইকিং করে দুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আবু জাহের বলেন, **”বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বন্যাদুর্গতদের আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।”**
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। জরুরি সহায়তার জন্য ৫ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল এবং ১ হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনা খাবার মজুদ রাখা হয়েছে।
এদিকে চুনারুঘাট উপজেলার নালমুখ বাজারসংলগ্ন এলাকায় নদীভাঙন আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে ভাঙন। এতে হরিজন সম্প্রদায়ের রবিদাস পাড়ার অন্তত ১৫টি পরিবার ঝুঁকিতে পড়েছে। পাশাপাশি হুমকির মুখে রয়েছে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি স্থাপনা এবং মাছুলিয়া পয়েন্টের শহর রক্ষা বাঁধ।
Leave a Reply