সবসময় ডেস্ক :::ইয়াবা ও গাজা সেবনের ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে সিলেটের জৈন্তাপুরে তৈরি হয়েছে চাপা উদ্বেগের পরিবেশ। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকেই ভয় পাচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক মতামত প্রকাশকারীদের মুঠোফোনে বার্তা (মেসেজ) দিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ফলে জনমনে আতঙ্ক, উৎকণ্ঠা ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে জৈন্তাপুর উপজেলার ১নং নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইন্তাজ আলীকে গাজা সেবন,ও ইয়াবা সেবন ঘিরে ভাইরাল ভিডিও বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, শুধু তদন্ত কমিটি নয়—ভিডিওগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত ফরেনসিক বিশ্লেষণের পাশাপাশি আইনসম্মত প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনে ডোপ টেস্টও করা উচিত।
তাদের ভাষ্য, চেয়ারম্যান ভিডিওগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করেছেন। তাই ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব বলে তারা মনে করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একই ধরনের দাবি উঠেছে।
অনেকেই লিখছেন, ভিডিওগুলোর প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে বিতর্কের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চেয়ারম্যানকে ঘিরে আরও কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিভিন্ন পোস্টে এসব ভিডিও নিয়ে মাদকসেবনের অভিযোগও আনা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিও এবং হামলা ও মামলার ভয়ে এ-সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকেই সাহস পাচ্ছেন না। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশের পর হুমকিমূলক বার্তা পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন, প্রযুক্তিগত ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং আইনসম্মত প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টির দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নিষ্পত্তি হবে। এতে জনমনে সৃষ্টি হওয়া সন্দেহ, বিতর্ক ও উদ্বেগের অবসান ঘটবে।
Leave a Reply