দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে লক্ষ্য করে নজরদারির অভিযোগে এক সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী ও তার প্রেমিকাকে গ্রেফতার করেছে ভারতের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।
রোববার (২ আগস্ট) এসটিএফ জানায়, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের (জেইএম) সঙ্গে গ্রেফতার হামিম মণ্ডলের যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
এসটিএফের ইন্সপেক্টর জেনারেল গৌরব শর্মা জানান, হামিম পুলিশ সদস্যের পোশাক পরে যন্তর মন্তরের কর্মসূচিতে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বল দিক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তদন্তকারীদের মতে, হামিমকে সম্ভাব্য হামলার জন্য একটি লক্ষ্য নির্ধারণ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে পশ্চিমবঙ্গে জেইএমের কয়েকজন হ্যান্ডলারের সঙ্গে তার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এসটিএফ।
আদালত হামিমকে ১৪ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন। এ ঘটনায় তার প্রেমিকা অর্পিতা সরকারকেও ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
পুলিশের অভিযোগ, হামিম ও অর্পিতা পাকিস্তানি নিয়ন্ত্রকদের নির্দেশে কাজ করছিলেন। অর্পিতা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ পরিচিতদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে তথ্য সংগ্রহ করতেন এবং তা হামিমের কাছে পাঠাতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারীরা আরও দাবি করেছেন, অর্পিতার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগের কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। হানি-ট্র্যাপের মাধ্যমে এক রাজ্যমন্ত্রীর ছেলেকে ফাঁসিয়ে অপহরণ ও অর্থ আদায়ের পরিকল্পনায় তাদের জড়িত থাকার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এসটিএফ জানিয়েছে, হামিম ও অর্পিতার পরিচয় হয় ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে। প্রায় চার বছর ধরে তাদের সম্পর্ক ছিল। হানি-ট্র্যাপ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে প্রথমে অর্পিতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়। পরে তার সূত্র ধরেই হামিমের কাছে পৌঁছান তদন্তকারীরা।
Leave a Reply