নতুন সাব-রেজিস্ট্রারের সামনেই দলিল লেখকদের বিরোধ প্রকাশ্যে; ক্ষুব্ধ হয়ে ফিরে গেলেন আব্দুল কাদের
সিলেট সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নতুন সাব-রেজিস্ট্রারের যোগদান ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই দলিল লেখক সমিতির অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। নতুন সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদেরের উপস্থিতিতে সমিতির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা, হট্টগোল ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতিতে বিরক্ত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই অফিস ত্যাগ করেন তিনি। পরে রাতেই প্রশিক্ষণে অংশ নিতে ঢাকায় চলে যান।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে সিলেট জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় জেলা রেজিস্ট্রার মো. জহুরুল ইসলামের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে সদর সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে বদলি হয়ে আসা আব্দুল কাদের অফিস পরিদর্শনে যান। তিনি এর আগে ঢাকার মোহাম্মদপুরে কর্মরত ছিলেন। আগামী রোববার তাঁর আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের কথা রয়েছে। এর আগেই নতুন কর্মস্থলের পরিবেশ ও কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নিতে তিনি সিলেটে আসেন।
এ সময় নিজের নির্ধারিত কক্ষে না গিয়ে জেলা রেজিস্ট্রারের কক্ষে পরিচিতিমূলক আলোচনায় বসেন তিনি। কিছুক্ষণ পর সেখানে উপস্থিত হন সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি শেখ লোকমান। নতুন সাব-রেজিস্ট্রারকে কাউকে না জানিয়ে অফিসে আসার কারণ জানতে চাইলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আব্দুল কাদের তাঁকে কথা না বাড়িয়ে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।
পরে শেখ লোকমান বিষয়টি সমিতির আহ্বায়ক ফরিদুর রহমানকে জানান। খবর পেয়ে ফরিদুর রহমান কয়েকজন সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে জেলা রেজিস্ট্রারের কক্ষে যান।
সেখানে তিনি জানতে চান, নতুন সাব-রেজিস্ট্রার যোগদান করেছেন বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। জবাবে আব্দুল কাদের স্পষ্ট করেন, তিনি এখনো যোগদান করেননি; শুধু কর্মস্থল পরিদর্শনে এসেছেন। আগামী রোববার তাঁর যোগদানের কথা রয়েছে।
এ নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ ওঠার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরে শেখ লোকমানকে কক্ষে ডেকে আনা হয়। এ সময় দলিল লেখক সমিতির সদস্যসচিব মুহিবুর রহমান জিলুর সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। অফিসের দেয়ালে টাঙানো একটি ব্যানারে দলিল লেখকদের ‘টাউট’ হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলে কক্ষে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উপস্থিত নেতারা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তবে এসব ঘটনার মধ্যে নতুন সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদের কক্ষ ত্যাগ করেন। পরে রাতে তিনি অফিসের কয়েকজন কর্মচারীকে নিয়ে বৈঠক করেছেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রশিক্ষণ শেষে আগামী রোববার তাঁর সিলেটে যোগদানের কথা রয়েছে।
দলিল লেখক সমিতির বিরোধের নেপথ্যেও রয়েছে একটি ব্যানার। অফিস সূত্র জানায়, সদ্য বিদায়ী সাব-রেজিস্ট্রার মিনহাজ উদ্দিনের সময়ে অফিসের দেয়ালে একটি ব্যানার টাঙানো হয়। সেখানে কয়েকজন দলিল লেখকের ছবি দিয়ে তাঁদের সনদপ্রাপ্ত দলিল লেখক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁদের বাইরে অন্য কেউ দলিল লেখক পরিচয় দিলে তাঁকে ‘টাউট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
ব্যানারটি নিয়ে সমিতির সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। একপর্যায়ে সাবেক সভাপতি শেখ লোকমানের উপস্থিতিতে কয়েকজন দলিল লেখক ব্যানারটি ছিঁড়ে ফেলেন। এরপর থেকেই সমিতির অভ্যন্তরে বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ বিরোধ নিরসনে বৃহস্পতিবার জরুরি সভা আহ্বানের কথা রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে নতুন সাব-রেজিস্ট্রারের যোগদানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির সঙ্গে দলিল লেখকদের পুরোনো বিরোধ যুক্ত হয়ে সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি শেখ লোকমান বলেন, ‘সামান্য ভুলবোঝাবুঝি হয়েছে। নতুন স্যারের যোগদান নিয়ে একটু কথা-কাটাকাটি হয়েছে, আর কিছু না।
দলিল লেখক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা ও সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নতুন আহ্বায়ক ফরিদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনা সত্য। আমাকে লোকমান বলেছে, নতুন সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে যোগদান করেছেন। তখন আমরা যাই। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার সাহেব জানান, তিনি যোগদান করেননি। এটি ভুল তথ্য ছিল। এ নিয়ে জিলু ও লোকমানের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
সিলেট জেলা রেজিস্ট্রার মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি আমার কক্ষেই ঘটেছে। নতুন সাব-রেজিস্ট্রার এসেছিলেন পরিচিত হতে এবং তাঁর কর্মস্থলের খোঁজখবর নিতে। এ নিয়ে দলিল লেখক সমিতির দুই পক্ষের মধ্যে কিছুটা হট্টগোল হয়েছে। বিষয়টি সমিতিকে জানিয়েছি। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’