ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ন্যাটোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্র অন্য কোনো মিত্র দেশের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জার্মানিভিত্তিক সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স গ্রুপ–ইউক্রেন (এসএজি-ইউ)–এর নেতৃত্ব পর্যায়ক্রমে একটি ইউরোপীয় বা কানাডীয় কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে। তবে এই সময়েও যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় কমান্ড (ইউএস ইউরোপিয়ান কমান্ড) একজন মার্কিন উপ-কমান্ডারের মাধ্যমে কার্যক্রমে যুক্ত থাকবে।
এসএজি-ইউ রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের জন্য সামরিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহ সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করে আসছে।
পলিটিকোর মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর প্রতিরক্ষা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্বের ভূমিকা কমানো, কিছু সেনা মোতায়েন হ্রাস এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় ন্যাটো মিত্রদের আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ন্যাটোর এক কর্মকর্তা পলিটিকোকে বলেন, একজন ইউরোপীয় বা কানাডীয় কর্মকর্তার নেতৃত্ব গ্রহণ মিত্র দেশগুলোর আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়ার আরেকটি উদাহরণ হবে। ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়া এখনো ন্যাটোর অন্যতম অগ্রাধিকার।
এ বিষয়ে পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানায়, এসএজি-ইউ শুরু থেকেই একটি অস্থায়ী কাঠামো হিসেবে পরিকল্পিত ছিল। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো জোটের ভেতরে দায়িত্ব ভাগাভাগি করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কার্টিস বাজর্ড দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল গিয়োম বোপেরের কাছে, যিনি রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।
এর আগে ন্যাটোর আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডের নেতৃত্বও যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্য মিত্রদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে জয়েন্ট ফোর্স কমান্ড নরফোক যুক্তরাজ্যের, জয়েন্ট ফোর্স কমান্ড নেপলস ইতালির এবং জয়েন্ট ফোর্স কমান্ড ব্রুনসুম জার্মানি ও পোল্যান্ডের নেতৃত্বে গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পূর্ব ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্র কিছু সেনা মোতায়েন কমালেও পোল্যান্ড থেকে সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা পরে বাতিল করা হয়েছে।
ইউক্রেনের এক কর্মকর্তা পলিটিকোকে বলেন, এই পরিবর্তনে অসুবিধার চেয়ে সুবিধাই বেশি। তার মতে, এতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব কমবে এবং ইউক্রেনের জন্য সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের সমন্বয় আরও কার্যকর হবে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ন্যাটোর আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কারণে সামরিক সহায়তা পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইট নজরদারি, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং ভারী পরিবহন বিমানের লজিস্টিক সক্ষমতার বিকল্প এখনো কারও নেই।
Leave a Reply