সৌদি আরবের আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুথি গোষ্ঠী। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটির দাবি, লোহিত সাগর, এডেন উপসাগর ও আরব সাগরে এসব হামলা চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে তারা দাবি জানিয়েছেন, গত এক মাসে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারের পাশাপাশি সামরিক অবস্থান ও তেল স্থাপনাসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ৩১টি অভিযান চালানো হয়েছে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, বুধবার (১৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে হুথিদের মুখপাত্র আমিন হাইয়ান এসব দাবি করেন।
তিনি বলেন, সৌদি আরবের নৌ চলাচল সীমিত করা, দেশটির সামরিক অবস্থানে হামলা এবং ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের কথিত ঘটনার জবাব দিতেই এসব অভিযান চালানো হয়েছে।
হাইয়ানের দাবি, ২০ জুলাই থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত হুথি বাহিনী সৌদি আরবের আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ছিল লোহিত সাগরে এবং তিনটি এডেন উপসাগর ও আরব সাগরে। তিনি আরও দাবি করেন, আঞ্চলিক জলপথ দিয়ে চলাচলকারী সৌদি আরবের ৪৮টি তেলবাহী ট্যাংকার আটকে দিয়েছে হুথিরা। এর মধ্যে ১৪টি লোহিত সাগরে এবং ৩৪টি আরব সাগর ও ভারত মহাসাগরে।
হাইয়ান আরও বলেন, সৌদি আরবের ইয়ানবু, নাজরান, জিজান ও আবহা অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু এবং দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের তেল স্থাপনাগুলোতেও ৯টি অভিযান চালানো হয়েছে।
তার দাবি, ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দর ও হোদেইদা সমুদ্রবন্দরে সৌদি হামলা এবং ইয়েমেনের সাদা ও হাজ্জাহ অঞ্চলের আকাশসীমায় সৌদি বিমানের কথিত লঙ্ঘনের জবাব হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়।
হাইয়ান বলেন, ইয়েমেনের রুওয়াইক, আল-আবর, আল-ওয়াদিয়াহ, মারিব ও মোকা অঞ্চলে সৌদি সামরিক অবস্থান এবং সামরিক সদস্য ও সরঞ্জাম বহনকারী সৌদি জাহাজও এসব অভিযানের লক্ষ্য ছিল।
আরও পড়ুন
হুথি মুখপাত্রের দাবি, এসব অভিযানে সৌদি ও সৌদি সমর্থিত বাহিনীর শত শত সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সামরিক কর্মকর্তারাও রয়েছেন। এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে।
হুথিরা আরও দাবি করেছে, মোকা উপকূলের কাছে দুটি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া বা অকার্যকর করে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া লোহিত সাগরে ১০টির বেশি সামরিক জাহাজও ধ্বংস বা অকার্যকর করার দাবি করেছে তারা।
এদিকে, হুথিদের এসব দাবির বিষয়ে সৌদি আরবের কর্মকর্তারা এখনও কোনও মন্তব্য করেননি। অবশ্য হাইয়ান সতর্ক করে বলেছেন, রিয়াদ যদি পরিস্থিতি আরও ‘উত্তপ্ত’ করে, তাহলে তার জবাবও দেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বেড়েছে। হুথিরা সৌদি ভূখণ্ড ও দেশটির জ্বালানি স্থাপনায় একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবিও করে আসছে।