স্টাফ রিপোর্ট :::
জাতিসংঘ মিলেনিয়াম ফেলোশিপ-২০২৬ পেয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ২৫ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে রয়েছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফাতেহা নাদিয়া। ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তারের মেয়ে নাদিয়াসহ শাবিপ্রবির নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারো আবেদনকারীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এ ফেলোশিপ অর্জন করেছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ফেলোশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
জাতিসংঘ একাডেমিক ইমপ্যাক্ট (ইউএনএআই) ও মিলেনিয়াম ক্যাম্পাস নেটওয়ার্ক (এমসিএন) যৌথভাবে পরিচালিত নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ ফেলোশিপ দেওয়া হয়।
জানা যায়, এ বছর বিশ্বের ১৭০টি দেশ থেকে প্রায় ৭৬ হাজার শিক্ষার্থী ফেলোশিপের জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে ৪০টি দেশের ৩৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। অর্থাৎ মোট আবেদনকারীর প্রায় ৫ শতাংশ এ ফেলোশিপ পেয়েছেন। এই প্রতিযোগিতায় শাবিপ্রবির ২৫ শিক্ষার্থী জায়গা করে নিয়েছেন।
শাবিপ্রবি থেকে জাতিসংঘ মিলেনিয়াম ফেলোশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন অর্থনীতি বিভাগের আবু ইয়াসিন ও শাহরিয়ার হোসেন; খাদ্য প্রকৌশল ও চা প্রযুক্তি বিভাগের আবদুল্লাহ আল নাদরুন; সমাজকর্ম বিভাগের তামান্না আক্তার, সাদিয়া আক্তার ও সৈয়দা রুকসানা আক্তার; সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ইয়াছিন আরাফাত; ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের উদয় গোপ; নৃবিজ্ঞান বিভাগের লায়লা আক্তার লাভলী, জান্নাতুল ফাতেহা নাদিয়া, বিদিপ্তা সরকার ও হুমায়ারা হাবিবা; সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অমিত লাল মুখার্জী; রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মুমু দে, মো. মিনহাজুল আবেদীন মিরন ও মো. সাদেক হোসাইন; লোক প্রশাসন বিভাগের ফাবিহা আক্তার জান্নাত ও সাকের আহমেদ নাবিল; গণিত বিভাগের কাজী তাসমিয়া বিনতে ইমাম তিশা ও অংকন সিনহা; স্থাপত্য বিভাগের জান্নাত আরা সিনথিয়া; পেট্রোলিয়াম ও খনন প্রকৌশল বিভাগের তাহসিনুল হক নাবিল ও তাসফিন আহমেদ; বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শ্রাবনী ভৌমিক এবং বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের মাহমুদ হাসান সিফাত।
এছাড়া এ প্রোগ্রামে ক্যাম্পাস প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সমাজকর্ম বিভাগের তামান্না আক্তার।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচিত ফেলোরা ফেলোশিপ চলাকালে নিজ নিজ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও দারিদ্র্য বিমোচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করবেন। পাশাপাশি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নেও ভূমিকা রাখবেন।
তরুণ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের দক্ষতা বৃদ্ধি, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্রিয় ভূমিকা রাখাই মিলেনিয়াম ফেলোশিপের মূল উদ্দেশ্য।