সবসময় ডেস্ক ::: সিলেট নগরীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল বের করার ঘটনায় ৬৯ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা এ মামলায় ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সিলেটের কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ আহমদ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধিত)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা (নং-২৬/০৬/২০২৬) দায়ের করেন। মামলায় ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৪৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাইনুল জাকির জানান, মামলার পর পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— ইব্রাহিম মোস্তফা মাহী, সানিয়াত আহমদ, রেদুয়ান আহমদ রাব্বী, আশরাফুল আহমদ শাহী ও সাকির আহমদ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে নগরীর নবাব রোড এলাকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আকস্মিকভাবে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, কর্মসূচিটি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. নাসির উদ্দিন খানের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়। মিছিলে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদকেও নেতৃত্বের ভূমিকায় দেখা যায়।
বিক্ষোভকারীরা আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মুক্তি এবং তাদের ভাষ্য অনুযায়ী ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগান দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা অল্প সময়ের জন্য নবাব রোড এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান প্রদানের পর দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
তবে মিছিল শেষ হওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। পরে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, মিছিলকারীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে সড়ক প্রদক্ষিণ করছেন, আর সড়কের বিপরীত পাশে পুলিশের একটি গাড়ি অবস্থান করছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা সৃষ্টি হলেও এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
Leave a Reply