জৈন্তাপুর প্রতিনিধি::: সিলেটের জৈন্তাপুরে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী ২৮ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জৈন্তাপুর শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ২৮ শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও ফুল তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের মাঝে কৃতী শিক্ষার্থীদের সাইবার সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতন করতে একটি সংক্ষিপ্ত কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের অনলাইনে নিরাপদে চলাফেরা, ব্যক্তিগত তথ্য ও পাসওয়ার্ড সুরক্ষা, ফিশিং ও প্রতারণামূলক লিংক শনাক্তকরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতার বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়।
জৈন্তাপুর শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান মোল্লা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার পাল।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আজিজুল হক খোকন, ঢাকা নটরডেম কলেজের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক মনোজ কুমার সেন, মাস্টার সিরাজুল ইসলাম, জৈন্তাপুর শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব ক্লেমেট চিসিম, জৈন্তিয়াপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি মাসুক আহমেদ, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম সারওয়ার বিলাল, সাবেক সভাপতি ফয়েজ আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম, অনলাইন প্রেসক্লাবের সহসভাপতি ইমাম উদ্দিন, রমজান রুপজান বাগেরখাল একাডেমির শিক্ষক মাসুক আহমেদ, ফাউন্ডেশনের সদস্য জাহিদুল ইসলাম জাহিদ সহ স্হানীয় গণমাধ্যম কর্মী, শিক্ষক, অভিভাবক ও কৃতী শিক্ষার্থীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায় বলেন, জৈন্তাপুরের মতো একটি উপজেলায় কৃতী শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত আনন্দের ও উৎসাহব্যঞ্জক। শিক্ষার দিক থেকে জৈন্তাপুর এখনও অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এ উপজেলাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হলে এখানকার মানুষকে যথাযথ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।
তিনি বলেন, জৈন্তাপুরের সম্পদ কীভাবে আরও ভালোভাবে ব্যবহার করা যায় এবং উপজেলাকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে জন্য সমাজের সব স্তরের মানুষকে সমন্বিতভাবে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলেই সফলতা অর্জন সম্ভব।
কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমাদের প্রতি রইল আমাদের অসংখ্য দোয়া ও ভালোবাসা। আজ যারা এই সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করছ, ভবিষ্যতে তোমাদের কেউ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত হবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা। একদিন তোমাদের কাছে গিয়ে যদি বলতে পারি, তোমাদের পথচলায় এই সম্মাননা ও উৎসাহের সামান্য ভূমিকা ছিল, তাহলে সেটিই আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের হবে।”
তিনি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতি ও উৎসাহ প্রদান তাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত অব্যাহত রাখলে জৈন্তাপুরের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।