ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার অপেক্ষায় সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি এক ডলারের বেশি কমেছে। সাম্প্রতিক সময়ে টানা দুই সপ্তাহ দাম বাড়ার পর বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়াও দরপতনের অন্যতম কারণ।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৫৫ ডলার বা ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৮৪ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ০৪ ডলার বা ২ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমে ৮৫ দশমিক ০২ ডলারে দাঁড়ায়।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং ইরানের তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে এখনো তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত দুই সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই— দুই ধরনের তেলের দামই ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ একসময় এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন হতো।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সোমবার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিতে পারেন। তিনি এর আগে ইরানের ওপর ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের হুমকি দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের তেল রফতানি আরও কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানি তেল পরিবহনের ওপর চাপ বাড়ালে ইরান পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ আরও ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। সংকট নিরসনে মধ্যস্থতার উদ্যোগ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানও সোমবার তেহরান সফর করেছেন।
আরও পড়ুন
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও ব্যাপকভাবে কমেছে। জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে ২০টিরও কম পণ্যবাহী জাহাজ ওই প্রণালি দিয়ে চলাচল করেছে।
তবে ইরাকের অনুরোধের পর দেশটির কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে মর্গান স্ট্যানলির বিশ্লেষকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহে বিঘ্ন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ফলে ব্রেন্টের দাম চতুর্থ প্রান্তিকে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।