একটি জার্সি কেবল এক টুকরো কাপড় নয়। এতে মিশে থাকে ঐতিহ্য, আকাঙক্ষা ও আবেগ। কালের পরিক্রমায় কোনো কোনো জার্সি ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে। তৈরি করে নতুন পরিচয়।
বাংলাদেশ ফুটবল দলের নতুন জার্সি ইতিহাসের অংশ হতে পারবে কি না, সেটি সময় বলবে। তবে, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) উন্মোচিত অ্যাওয়ে জার্সি বহন করছে আবহমান বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য।
সাদা জমিনের হোম জার্সিতে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে মাতৃভাষা বাংলাকে। বুকের মধ্যে ফুটে উঠেছে বর্ণমালার বিভিন্ন অক্ষর। দু’পাশে লাল এবং কলারে লাল ও সবুজ রঙের স্ট্রাইপ ব্যবহার করা হয়েছে। সাদা জার্সির সঙ্গে লাল শর্টস পরবেন ফুটবলাররা।
অ্যাওয়ে জার্সি তৈরি হয়েছে সবুজ জমিনে। সামনের পুরো অংশজুড়ে রাখা হয়েছে স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি। হাতায় রাখা হয়েছে বাঘের ডোরাকাটা। দুই কাঁধের অংশ শোভিত হয়েছে পতাকার লাল রঙে। সবুজ জার্সির সঙ্গে সবুজ শর্টস পরে মাঠে নামবেন ফুটবলাররা।
বাংলাদেশ দলের নতুন জার্সির আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে, এটি এদেশের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। জার্সির কাপড়ে ব্যবহৃত ফেব্রিক্স ঘাম প্রতিরোধী। মাত্র ৮ মিনিটে খেলোয়াড়দের ঘাম শুকিয়ে দেবে এই জার্সি। মাঠে খেলার সময় ঘামে ভিজে গেলে তাৎক্ষণিক আরেকটি লেয়ার তৈরি হবে, যা ফুটবলারদের অস্বস্তির হাত থেকে বাঁচাবে।
বাফুফের কিট পার্টনার দৌড় প্রস্তুত করেছে জার্সিগুলো। দৌড়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবিদ আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ফুটবলপ্রেমীদের কাছ থেকে জার্সির ডিজাইন চেয়েছিলাম। মোট ১ হাজার ৩০০টি ডিজাইন পাই। সেখান থেকে ৩৪টি এলিমেন্ট নিয়ে জার্সি তৈরি করা হয়েছে। আমরা ধানক্ষেত, মাতৃভাষাসহ দেশীয় ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দিয়েছি।’
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটোরিয়ামের আয়োজিত হয় জমকালো এক অনুষ্ঠান। সেখানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল জার্সি উন্মোচন করেন।