সিলেটের গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দমদমা-তুরুং সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পণ্য প্রবেশের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সীমান্তে চোরাচালান ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নানা তৎপরতা থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন কৌশলে এখনও সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু, মাদক ও অন্যান্য পণ্য প্রবেশ করছে।
স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তকেন্দ্রিক এসব কর্মকাণ্ডে ইমরান হোসেন ওরফে কালা এবং আবু সাঈদ নামে দুই ব্যক্তির নাম দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাদের ‘লাইনম্যান’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন, তাদের মাধ্যমে সীমান্তে পণ্য পারাপারের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ভারতীয় গরু পারাপারের ক্ষেত্রে গরুপ্রতি টাকা আদায়ের একটি ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এ অর্থ আদায়ের সঙ্গে কারা জড়িত এবং এর সঙ্গে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা আছে কি না-তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ইমরান হোসেন ও আবু সাঈদের বিরুদ্ধে চোরাচালান ও মাদকসহ বিভিন্ন ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রকৃত সংখ্যা ও বর্তমান আইনি অবস্থান সংশ্লিষ্ট আদালত ও থানার নথি যাচাই ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
সম্প্রতি দমদমা সীমান্তে ভারতীয় গরু পারাপারকে কেন্দ্র করে বিজিবির ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইমরান হোসেন কালার নাম রয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রের দাবি। বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।
এদিকে কালা কারাগারে যাওয়ার পর সীমান্তের কথিত চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে আবু সাঈদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তাদের অভিযোগ, মামলা ও নানা অভিযোগের পরও সীমান্ত এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্রের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবু সাঈদ। তিনি বলেন, সীমান্তে চোরাচালানের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। বরং তাকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের অভিযোগ, কথিত ‘লাইনম্যান’দের ভূমিকা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে দমদমা বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত নায়েব সুবেদারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তে চোরাচালান বন্ধে শুধু পণ্য জব্দ বা বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, এর সঙ্গে জড়িত পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।