দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান। অপরাধ দমনে চলছে ধারাবাহিক তৎপরতা। সিলেটে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত আগের তুলনায় কমেছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অভিযান ও নজরদারি জোরদারের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সীমান্তকেন্দ্রিক চোরাচালানের তৎপরতা। প্রশ্ন উঠেছে কিশোর গ্যাং দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা দৃশ্যমান হলেও সীমান্ত থেকে নগর পর্যন্ত বিস্তৃত চোরাচালানের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না কেন?
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের আলো কমে সন্ধ্যা নামার পর সিলেটের সীমান্তসংলগ্ন বিভিন্ন সড়কে পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচল বেড়ে যায়। এসব যানবাহনের কিছু অংশের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধ পণ্য দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কখনো মোটরসাইকেল, কখনো পিকআপ কিংবা ট্রাক, আবার কোথাও নৌপথ ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের কথা শোনা যায়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা, পরিবহনের প্রকৃত রুট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা জরুরি।
সীমান্তে বিজিবির অভিযান, সড়কে পুলিশের তল্লাশি এবং বিভিন্ন সময়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য জব্দের খবর প্রকাশিত হলেও চোরাচালানের পুরো সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিচ্ছিন্ন চালান জব্দের পাশাপাশি এই কারবারের অর্থের উৎস, পণ্য সংগ্রহকারী, পরিবহনকারী, গুদামমালিক ও শেষ পর্যায়ের সরবরাহকারীদের শনাক্ত করা যাচ্ছে কি না তা নিয়েই এখন আলোচনা জোরালো হচ্ছে।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট ভারতের সীমান্তসংলগ্ন এলাকা হওয়ায় এসব অঞ্চলের বিভিন্ন পথ দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রচলিত অভিযোগ অনুযায়ী, খাদ্যদ্রব্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি মাদক, ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পণ্যও চোরাপথে দেশে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে।
তবে কোন পথে কী ধরনের পণ্য প্রবেশ করছে, কতটা পণ্য পরিবহন হচ্ছে এবং কোন চক্র এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
সীমান্তের ভৌগোলিক বাস্তবতা, বিচ্ছিন্ন জনপদ, নদী ও পাহাড়ি পথ এবং বিস্তৃত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে নজরদারি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধ পণ্য পরিবহন করে থাকলে শুধু সীমান্তে তল্লাশি বাড়িয়ে তার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সীমান্ত থেকে গন্তব্য পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের ওপর নজরদারি জরুরি।
অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট তথ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের অভিযোগে উঠে এসেছে, সীমান্ত থেকে পণ্য সংগ্রহের পর তা সরাসরি ক্রেতার কাছে পৌঁছায় না। বরং পরিবহন, অস্থায়ী সংরক্ষণ, গুদামজাতকরণ এবং পুনরায় সরবরাহের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে পণ্যগুলো বাজারে পৌঁছানোর অভিযোগ রয়েছে।
এ ধরনের ব্যবস্থায় পণ্য সংগ্রহকারী, পরিবহনকারী, মধ্যস্বত্বভোগী ও পাইকারি সরবরাহকারীদের ভূমিকা আলাদা হতে পারে। প্রতিটি ধাপে হাতবদলের কারণে পণ্যের দাম বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সীমান্তমূল্যের তুলনায় চূড়ান্ত ক্রয়মূল্য দ্বিগুণের বেশি হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে পণ্যভেদে প্রকৃত মূল্যবৃদ্ধি নির্ধারণে ক্রয়মূল্য, পরিবহন ব্যয়, মধ্যস্বত্বভোগীর মুনাফা ও বাজারদরের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রমিকদের ব্যবহার করে সীমান্ত থেকে পণ্য সরানো, নৌকা বা মোটরসাইকেলে ছোট চালান পরিবহন এবং পরে পিকআপ কিংবা ট্রাকে বড় পরিসরে সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো চালান শহরের বিভিন্ন গুদাম বা অস্থায়ী সংরক্ষণস্থলে নেওয়া হয় বলেও দাবি করা হচ্ছে।
এসব অভিযোগ সত্য হলে চোরাচালানকে কেবল সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এর সঙ্গে যুক্ত পরিবহন, মজুত, অর্থ লেনদেন এবং বাজারে সরবরাহের পুরো ব্যবস্থাকে তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
সীমান্ত থেকে সিলেট নগর কিংবা অন্যান্য গন্তব্যে পৌঁছাতে পণ্যবাহী যানবাহনকে বিভিন্ন সড়ক ও প্রশাসনিক এলাকার মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়। এসব রুটে বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা, পুলিশের টহল ও বিভিন্ন থানার আওতাধীন সড়ক থাকতে পারে।
এখানেই সামনে আসছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন অবৈধ পণ্য পরিবহনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট চালানগুলো কীভাবে একাধিক এলাকা অতিক্রম করে গন্তব্যে পৌঁছায়? নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারির মধ্যে কোনো চালান চলাচল করলে সেটি শনাক্ত করার সুযোগ কোথায় তৈরি হচ্ছে, আর কোথায় নজরদারির ঘাটতি থেকে যাচ্ছে?
এসব প্রশ্নের উত্তর অনুমাননির্ভর অভিযোগ দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। প্রয়োজন পরিবহন রুট বিশ্লেষণ, জব্দ করা চালানের উৎস অনুসন্ধান, যানবাহনের মালিকানা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বৈধ প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত। কোনো কর্মকর্তা বা বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগ উঠলে সেটিও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।
সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে অবৈধ পণ্য জব্দ করছে। অন্যদিকে সড়কপথে পুলিশও বিভিন্ন চালান আটক করছে। এসব অভিযান আইন প্রয়োগের অংশ এবং চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, অভিযানে পণ্য জব্দ হওয়ার পর সেই চালানের উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কে কতটা তথ্য উদ্ঘাটিত হচ্ছে? পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি পণ্যের প্রকৃত মালিক, অর্থের জোগানদাতা এবং পুরো কার্যক্রম পরিচালনাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে কি না?
কোনো চালান আটক হওয়ার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কও ভেঙে পড়েছে। একইভাবে কোনো এলাকায় বারবার পণ্য জব্দ হওয়ার ঘটনাও এককভাবে প্রমাণ করে না যে সংশ্লিষ্ট সব পরিবহন বা ব্যবসা অবৈধ। প্রতিটি ঘটনায় প্রমাণ, মামলার অগ্রগতি এবং তদন্তের ফলাফল আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।
তবে ধারাবাহিক অভিযানের পরও একই ধরনের অভিযোগ সামনে এলে তদন্তের কার্যকারিতা, গোয়েন্দা তথ্যের ব্যবহার এবং সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সমন্বয় পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। শুধু পণ্য উদ্ধার নয়, অপরাধের অর্থনৈতিক ভিত্তি ও সংগঠিত কাঠামো ভেঙে দেওয়াই হওয়া উচিত দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।
চোরাচালানের পণ্য পরিবহনের সড়ক নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সিলেটের বিমানবন্দর থানাধীন এলাকায় রক্তপাতের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে। ঘটনাটির সঙ্গে চোরাচালানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, থাকলে কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং বিরোধের প্রকৃত কারণ কী এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অপরাধী চক্রের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার, পরিবহন রুট নিয়ন্ত্রণ কিংবা অবৈধ লেনদেনের স্বার্থকে কেন্দ্র করে বিরোধ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে তদন্তে প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত এমন কোনো কারণকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।
এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হলে শুধু হামলা বা রক্তপাতের কারণই নয়, এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী নেটওয়ার্কের ভূমিকা রয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট হতে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পথ তৈরি হবে।
চোরাচালান প্রতিরোধের কার্যকর কৌশল হতে পারে সীমান্ত, পরিবহন রুট, গুদাম এবং বাজার সব পর্যায়ে সমন্বিত নজরদারি। সীমান্তে পণ্য প্রবেশের চেষ্টা শনাক্ত করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অবৈধ পণ্য কোথায় মজুত হচ্ছে, কারা তা গ্রহণ করছে এবং কোন মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে, তা শনাক্ত করাও জরুরি।
এ ক্ষেত্রে জব্দ করা পণ্যের উৎস ও গন্তব্যের তথ্য সংরক্ষণ, একই ধরনের চালানের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে বের করা, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন আইনসম্মতভাবে যাচাই করা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
একই সঙ্গে বৈধ ব্যবসায়ী ও সাধারণ পরিবহন শ্রমিকদের যেন অযথা হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বিচারে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়াই আইন প্রয়োগের সঠিক পদ্ধতি।
সিলেটে সীমান্তকেন্দ্রিক চোরাচালান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে অভিযান, পণ্য জব্দ এবং গ্রেপ্তারের ঘটনাও সামনে আসছে। তারপরও একই ধরনের অভিযোগ পুনরাবৃত্তি হলে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক এই কারবারের নেপথ্যে থাকা সংগঠক ও অর্থের জোগানদাতাদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না।
চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা এক নয়। কেউ পণ্য বহন করতে পারে, কেউ সাময়িকভাবে সংরক্ষণ করতে পারে, আবার কেউ অর্থায়ন বা বাজারজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। তাই শুধু চালক, শ্রমিক কিংবা বাহককে আটক করে তদন্ত শেষ করলে বৃহত্তর নেটওয়ার্কের প্রকৃত কাঠামো অজানাই থেকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
অন্যদিকে কাউকে ‘মূল হোতা’ হিসেবে চিহ্নিত করার আগে তার বিরুদ্ধে যাচাইযোগ্য প্রমাণ থাকা আবশ্যক। তদন্তে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং মামলার অগ্রগতি জনসমক্ষে তুলে ধরা জরুরি।
কিশোর গ্যাং দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক আলোচনা থাকলেও সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে দীর্ঘমেয়াদি ফল পেতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিজিবি, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, কাস্টমস এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মধ্যে তথ্য বিনিময় ও যৌথ তদন্ত জোরদার করা যেতে পারে।
বিশেষ করে বারবার জব্দ হওয়া পণ্যের উৎস, পরিবহন রুট, সংশ্লিষ্ট যানবাহন, গুদাম এবং বাজারজাতকরণের ধারাবাহিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে সংঘবদ্ধ চক্রের যোগসূত্র শনাক্ত করা সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিটি বড় অভিযানের পর তদন্তের অগ্রগতি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং মামলার পরিণতি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
কোনো অনিয়মে সরকারি কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর পদমর্যাদা বা পরিচয় বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি রয়েছে। পাশাপাশি নির্দোষ ব্যক্তির অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সিলেটের সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধের প্রশ্নটি এখন শুধু পণ্য জব্দ বা অভিযান পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মূল চ্যালেঞ্জ হলো সীমান্ত থেকে পণ্য সংগ্রহ, পরিবহন, সংরক্ষণ, অর্থ লেনদেন এবং বাজারজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত পুরো ব্যবস্থার প্রকৃত চিত্র উদ্ঘাটন করা।
সীমান্তে পণ্য আটক হচ্ছে, সড়কে অভিযান চলছে এরপরও চোরাচালানের অভিযোগ কেন বারবার সামনে আসছে, তার জবাব প্রয়োজন। কোন পথে পণ্য প্রবেশ করছে, কারা তা গ্রহণ করছে, কীভাবে একাধিক হাতবদলের পর বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছাচ্ছে এবং এই কর্মকাণ্ডের অর্থনৈতিক সুবিধাভোগী কারা এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভরযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা জরুরি।
অভিযানের সাফল্য শুধু জব্দ করা পণ্যের পরিমাণ দিয়ে নয়; বরং অপরাধের মূল কাঠামো শনাক্ত, অবৈধ সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুনরাবৃত্তি কমিয়ে আনার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
সীমান্ত থেকে শহর পর্যন্ত চোরাচালানের অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সংস্থাগুলোর জবাবদিহি এবং দৃশ্যমান আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিচ্ছিন্ন চালান আটকের বাইরে গিয়ে অভিযোগগুলোর গভীরে পৌঁছাতে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।