স্বাস্থ্যকর, ঘন ও মজবুত চুলের জন্য অনেক কিছু ব্যবহার করছেন। কখনো দামি শ্যাম্পু, কখনো কন্ডিশনার, হেয়ার সিরাম, মাস্ক কিংবা নানা ধরনের তেল। চুলের যত্নে সময় ও অর্থ ব্যয় করতেও পিছপা হন না অনেকে। কিন্তু জানেন কি, চুল ভালো রাখার এই চেষ্টাতেই অজান্তে ক্ষতি করে ফেলছেন না তো? অতিরিক্ত প্রসাধনীর ব্যবহার, ভুল উপায়ে চুল ধোয়া কিংবা শক্ত করে চুল বাঁধার অভ্যাস চুলের স্বাস্থ্য নষ্ট করতে পারে। ফলে যত্ন নেওয়ার পরও চুল ঝরার সমস্যা বাড়তে পারে।
চুলের যত্ন নেওয়া জরুরি, তবে তার অর্থ এই নয় যে প্রতিদিন চুলে নানা ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করতে হবে। বরং চুলের ধরন ও স্ক্যাল্পের প্রয়োজন বুঝে সহজ একটি রুটিন মেনে চলাই বেশি কার্যকর।
অতিরিক্ত শ্যাম্পু করলেই কি চুল ঝরে?
চুল পরিষ্কার রাখতে শ্যাম্পু করা প্রয়োজন। তবে কত ঘন ঘন শ্যাম্পু করবেন, তা নির্ভর করে স্ক্যাল্পের ধরন, চুলের অবস্থা, ঘাম ও ময়লা জমার ওপর। প্রতিদিন শ্যাম্পু করা সবার জন্য ক্ষতিকর নয়। কিন্তু অতিরিক্ত পরিষ্কার করার কারণে স্ক্যাল্প শুষ্ক হয়ে গেলে অস্বস্তি, চুলকানি কিংবা চুলের গোড়ার ত্বকে জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কিছু শ্যাম্পুতে সোডিয়াম লরেট সালফেট (এসএলএস) রয়েছে, সেগুলো স্ক্যাল্পের মারাত্মক ক্ষতি করে। প্রতিদিন চুল ধুলে স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক তেল বা সেবাম নষ্ট হয়ে যায়। ফলে স্ক্যাল্প শুষ্ক ও স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে। এছাড়া চুল গোড়া থেকেও আলগা হয়ে পড়ে। সহজেই ভেঙে বা ছিঁড়ে যেতে শুরু করে। তার মানে এই নয় যে শ্যাম্পু করা ক্ষতিকর। অতিরিক্ত কোনও কিছুই ভালো নয়। রাসায়নিক-যুক্ত শ্যাম্পু চুলের ফলিকল নষ্ট করে দেয়।
শক্ত করে চুল বাঁধার অভ্যাসে বিপদ
অনেকেই চুল শক্ত করে পনিটেল বাঁধতে বা টানটান করে খোপা করতে পছন্দ করেন। এতে চুল পরিপাটি দেখালেও নিয়মিত একইভাবে চুল বাঁধলে গোড়ায় অতিরিক্ত টান পড়ে। দীর্ঘদিন এমন চাপ চলতে থাকলে চুলের ক্ষতি হতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই সমস্যাকে বলা হয় ‘ট্র্যাকশন অ্যালোপেশিয়া’। সাধারণত চুলের গোড়ায় দীর্ঘদিন টান পড়ার কারণে এই ধরনের চুল ঝরা দেখা দেয়। কপালের দুই পাশের চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, চুলের গোড়ায় ব্যথা বা অস্বস্তি এবং ছোট ছোট চুল ভেঙে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। শুরুতেই চুল বাঁধার ধরন বদলানো জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে এমন টান চলতে থাকলে চুলের ক্ষতি স্থায়ীও হতে পারে।
অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহারে বাড়ে সমস্যা?
চুলের যত্নে শ্যাম্পু, কন্ডিশনার ও প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য প্রসাধনী ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে একসঙ্গে অনেক ধরনের পণ্য ব্যবহার করলেই যে চুল বেশি স্বাস্থ্যকর হবে, তা নয়। কোনো পণ্য স্ক্যাল্পে অস্বস্তি তৈরি করলে, চুলে অতিরিক্ত আস্তরণ জমলে কিংবা চুল রুক্ষ হয়ে গেলে ব্যবহারের ধরন পর্যালোচনা করা দরকার।
চুলের ধরন অনুযায়ী পণ্য বেছে নেওয়া এবং নতুন কোনো প্রসাধনী ব্যবহারের পর চুল বা স্ক্যাল্পে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হচ্ছে কি না, সেদিকে নজর রাখা জরুরি। একাধিক পণ্য ব্যবহার করলেই চুল ঝরবে, এমন নয়; তবে অপ্রয়োজনীয় প্রসাধনী ব্যবহারে উপকারের বদলে সমস্যা বাড়তে পারে।
চুল ভালো রাখতে মেনে চলুন সহজ নিয়ম
চুলের যত্নে অযথা জটিল রুটিন তৈরি না করে প্রয়োজন অনুযায়ী শ্যাম্পু করুন। চুলের দৈর্ঘ্যে কন্ডিশনার ব্যবহার করলে জট কমতে পারে এবং চুল সামলানো সহজ হয়। অতিরিক্ত তাপ দিয়ে চুল শুকানো বা স্টাইল করার অভ্যাস কমিয়ে দিন। চুল বাঁধার সময় গোড়ায় টান পড়ে, এমন হেয়ারস্টাইল এড়িয়ে চলুন।
চুল ঝরার পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে গেলে, দীর্ঘদিন ধরে চুল পাতলা হতে থাকলে কিংবা স্ক্যাল্পে চুলকানি, ব্যথা বা প্রদাহ দেখা দিলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
কারণ চুল ঝরার পেছনে বংশগত প্রভাব, পুষ্টির ঘাটতি, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা অন্য শারীরিক সমস্যাও থাকতে পারে। তাই শুধু প্রসাধনী বদলানোর বদলে সমস্যার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করাই চুলের যত্নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, ভোগ