সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় চোরাই পাথর উদ্ধারে উপজেলা প্রশাসনের পরিচালিত অভিযানের পর নতুন করে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। অভিযানে বিপুল পরিমাণ পাথর জব্দের দাবি থাকলেও, ঠিক কত পরিমাণ পাথর উদ্ধার করা হয়েছে – সেই তথ্যই জানাতে পারেননি অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়া। একই সঙ্গে একটি ট্রাক ভাঙা পাথরের অবস্থান নিয়েও তৈরি হয়েছে রহস্য।
সোমবার (১৩ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে আস্ত ও ভাঙা পাথর জব্দ করে উপজেলা প্রশাসন। তবে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সাংবাদিকরা জব্দকৃত পাথরের পরিমাণ জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, “কত পরিমাণ পাথর উদ্ধার হয়েছে, তা আমার জানা নেই। কতটি ট্রাক বা ট্রাক্টরে পাথর আনা হয়েছে, সেটিও বলতে পারব না।”
ইউএনওর এমন বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও। এ সময় উপস্থিত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মনাফ ও সিনিয়র সহ-সভাপতি শওকত আলী বাবুল জানান, একটি ট্রাক্টরে সাধারণত ১৫০ থেকে ২০০ ঘনফুট এবং একটি বড় হাইড্রলিক ট্রাকে প্রায় ৫০০ ঘনফুট পাথর পরিবহন করা যায়।
সাংবাদিকদের তথ্য না দেওয়ার বিষয়ে শওকত আলী বাবুল বলেন, “অভিযানের বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের জানানো ইউএনওর দায়িত্ব ছিল। কেন তিনি তা জানাচ্ছেন না, সেটি বোধগম্য নয়।” তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে জব্দকৃত পাথর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মসজিদে বিতরণের নজিরও রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জব্দ করা অধিকাংশ পাথর উপজেলা পরিষদের সরকারি কোয়ার্টারের ভেতরে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, অভিযানে দুটি হাইড্রলিক ট্রাকে প্রায় ১,৫০০ ঘনফুট ভাঙা পাথর এবং ছয়টি ট্রাক্টরে প্রায় ১,২০০ ঘনফুট আস্ত পাথর জব্দ করা হয়। এর মধ্যে এক ট্রাক ভাঙা পাথর ও ছয় ট্রাক্টর আস্ত পাথর কোয়ার্টারে রাখা হলেও, অপর একটি ট্রাক ভাঙা পাথরের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও মোহাম্মদ রবিন মিয়া নিখোঁজ বলে দাবি করা পাথর সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
এদিকে, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা বলেন, “ইউএনও কত গাড়ি পাথর জব্দ করেছেন, সেই তথ্য তাঁর জানা থাকার কথা। কেন তিনি তা বলতে পারেননি, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযানের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এখনো আমাদের হাতে পৌঁছেনি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানানো যাবে।”
অভিযানে জব্দকৃত পাথরের প্রকৃত পরিমাণ, সংরক্ষণের স্থান এবং একটি ট্রাক ভাঙা পাথরের অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। এখন প্রশাসনের তদন্তেই পরিষ্কার হবে এই রহস্যের জট খুলবে কি না।
Leave a Reply