সবসময় ডেস্ক ::: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) ২৩নং ওয়ার্ডের মেন্দিবাগ-মাছিমপুর এলাকার সংযোগ সড়কের পাশে খোলা জায়গায় প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে নগরের বিপুল পরিমাণ বর্জ্য। আবাসিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগ সড়কের পাশে এভাবে উন্মুক্ত স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমিয়ে রাখায় তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকেই সিসিকের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও স্থানীয়রা এই নির্দিষ্ট খোলা জায়গায় বর্জ্য এনে জড়ো করেন। সারা দিন এই বর্জ্যের স্তূপ উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় তা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে আশপাশের এলাকায় দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে এবং মশা-মাছির উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। পথচারীরা নাক-মুখ চেপে এই রাস্তা পারাপার হচ্ছেন। বিশেষ করে সংলগ্ন এলাকার শিশু ও বৃদ্ধরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একটি জনবহুল এলাকার মূল সড়কের পাশে এভাবে খোলা স্থানে ময়লা ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রতিদিন সন্ধ্যায় সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্যবাহী ট্রাক এসে এই ময়লা-আবর্জনা তুলে নিয়ে গেলেও, সারা দিন ধরে চলা এই ভোগান্তির কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।এলাকাবাসীর দাবি, জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে জনবহুল ও উন্মুক্ত স্থানে ময়লা ফেলা অবিলম্বে বন্ধ করা হোক। একই সাথে এই সংযোগ সড়ক থেকে ময়লার স্তূপ সরিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ও নিরাপদ স্থানে বর্জ্য স্থানান্তরের জন্য সিলেট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
সরেজমিনে ২৩নং ওয়ার্ডের সংশ্লিষ্ট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় বর্জ্যসহ নানা ধরণের ময়লা-আবর্জনা স্তূপ আকারে পড়ে আছে। কোনো নির্দিষ্ট ডাম্পিং জোন না থাকায় মেন্দিবাগ, মাছিমপুর ও দেওয়ানবাগ এলাকার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বাধ্য হয়ে এখানেই ময়লা ফেলছেন।
বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অনেকেই নাক চেপে বা কাপড় মুখে দিয়ে চলাচল করছেন।
স্থানীয় এক ভুক্তভোগী বাসিন্দা জানান, এখানে কোনো জাম্পিং জোন না থাকায় সিসিকের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বাধ্য হয়ে খোলা জায়গায় ময়লা ফেলছে।
পথচারীদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না। তারা অনতিবিলম্বে এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি চান। পথচারীদের জোর দাবি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে যেন দ্রুত ময়লা ফেলার জন্য একটি নির্দিষ্ট ওয়ালসহ আধুনিক ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা হয়।
পরিবেশবিদদের মতে, খোলা জায়গায় এভাবে বর্জ্য ফেলে রাখলে তা শুধু বায়ু দূষণই করে না, বরং বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। স্মার্ট নগরী গড়ার অংশ হিসেবে ঘনবসতিপূর্ণ এই ওয়ার্ডটিতে দ্রুত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন জরুরি।
এলাকাবাসী আশা করছেন, জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও সংশ্লিষ্টরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
Leave a Reply