নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল।
শনিবার (২৯ আগস্ট) কাঠমান্ডুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
শিশির খানাল বলেন, ‘পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে সম্ভবত কয়েক বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে পরিকল্পনা করব। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছি।’
দুর্যোগের তিন দিন পরও উদ্ধারকাজকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, যতটা সম্ভব মানুষের জীবন রক্ষা ও উদ্ধার করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। তবে বিপর্যয়ের ব্যাপকতা সরকারের সক্ষমতার ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।
নেপালে এখন পর্যন্ত ৬৭৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪২৬ জনের বেশি।
উদ্ধার করা মরদেহ সংরক্ষণ ও পরিচয় শনাক্তে বিশেষায়িত সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, নদীর ভাটিতে শত শত মরদেহ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় দ্রুত সেগুলো পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নেপালের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় দীর্ঘ সময় মরদেহ হিমায়িত অবস্থায় সংরক্ষণের পর্যাপ্ত সক্ষমতা নেই বলেও জানান তিনি। এ কারণে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের অনুরোধ করা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মরদেহ সংরক্ষণের জন্য পচনশীল পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত ফ্রিজার ট্রাক আনার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।
মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান তিনি। এ জন্য ফরেনসিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষা ও প্রতিবেদন তৈরিতে নেপালের সক্ষমতা সীমিত বলে উল্লেখ করেন শিশির খানাল।