শনিবার (২৯ আগস্ট) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর আওতাধীন তামাবিল, প্রতাপপুর, বাংলাবাজার, বিছনাকান্দি ও সংগ্রাম বিওপি এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য ও নৌযান আটক করেন বিজিবির সদস্যরা।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা, কম্বল, বিভিন্ন ধরনের ফল, কসমেটিকস, গরু, পান মসলা ও সুপারি জব্দ করা হয়েছে। একই অভিযানে সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে বালু-পাথর পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি বাংলাদেশি ইঞ্জিনচালিত নৌকাও আটক করা হয়।
বিজিবির ধারণা, সীমান্তের বিভিন্ন দুর্গম ও নদীপথকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র চোরাচালানি পণ্য পরিবহন এবং বালু-পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য অবৈধভাবে স্থানান্তরের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহের পরই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
শনিবারের অভিযানে তামাবিল, প্রতাপপুর, বাংলাবাজার, বিছনাকান্দি ও সংগ্রাম বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবির পৃথক দল অভিযান পরিচালনা করে। এসব এলাকায় সীমান্তপথে অবৈধভাবে পণ্য প্রবেশ ও পরিবহনের সম্ভাব্য রুটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়।
অভিযানের সময় ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হলেও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে বিছনাকান্দিসহ সীমান্তবর্তী নদীপথে বালু-পাথর পরিবহনে ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত নৌযান আটকের ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে বিজিবি। সীমান্তের নদীপথ ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু-পাথর পরিবহন বন্ধে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক জানান, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত অভিযান এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চোরাচালানি পণ্য ও অবৈধ কাজে ব্যবহৃত নৌযানটি আটক করা হয়েছে। সীমান্তে চোরাচালানসহ সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিজিবির অধিনায়ক আরও বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য প্রবেশ, মাদক পাচার এবং অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। সীমান্তের দুর্গম এলাকাগুলোতেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
বিজিবি সূত্রের দাবি, পৃথক অভিযানে জব্দ করা চোরাচালানি পণ্য ও আটক নৌযানের আনুমানিক সিজার মূল্য প্রায় ২৯ লাখ টাকা। জব্দ করা পণ্যগুলো বর্তমানে বিজিবির হেফাজতে রয়েছে।
আটক পণ্য ও নৌযানের বিষয়ে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
সীমান্তে চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবির এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে চোরাচালানচক্রের তৎপরতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সীমান্তের দুর্গম এলাকা ও নদীপথকে ব্যবহার করে সক্রিয় থাকা চোরাচালানচক্রের মূলহোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।