সবসময় ডেস্ক :::বিজ্ঞান শুধু পাঠ্যবইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ কোনো বিষয় নয়; বরং এটি অনুসন্ধান, যুক্তি, কল্পনা ও সৃষ্টিশীলতার এক অনন্ত যাত্রা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বিজ্ঞানমনস্কতা জাগ্রত করা, তাদের সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ ঘটানো এবং উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে স্কলার্সহোম শিবগঞ্জ শাখায় প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় ০১-১০-২৬ বৃহস্পতিবারে অনুষ্ঠিত হলো এক বর্ণাঢ্য ও প্রাণবন্ত বিজ্ঞান মেলা ২০২৬।
মেলাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিরাজ করছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, কৌতূহলী দর্শনার্থীদের উপস্থিতি এবং নানা ধরনের সৃজনশীল প্রকল্পে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। উদ্বোধনী পর্বে বিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষ শানিজ ফাতেমা ইব্রাহিম বিজ্ঞানচর্চার তাৎপর্য, আধুনিক বিশ্বের অগ্রযাত্রায় বিজ্ঞানের অবদান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গবেষণা, অনুসন্ধান ও উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন।
মেলায় প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা মোট ২২টি সৃজনশীল ও আকর্ষণীয় প্রকল্প উপস্থাপন করে। প্রতিটি প্রকল্পেই প্রতিফলিত হয় শিক্ষার্থীদের কৌতূহল, কল্পনাশক্তি, যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা, পর্যবেক্ষণশক্তি এবং নতুন কিছু আবিষ্কারের অদম্য আগ্রহ। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, সহজলভ্য উপকরণের বৈজ্ঞানিক ব্যবহার, দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সম্ভাব্য সমাধানসহ বিচিত্র ও সময়োপযোগী বিষয় নিয়ে সাজানো প্রকল্পগুলো দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষকদের সৃজনশীল উদ্যোগে নির্মিত রোবট, টেলিভিশন এবং বিজ্ঞানীদের পরিচিতি তুলে ধরা বিশেষ প্রদর্শনী। এসব ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ সৃষ্টি করে। প্রতিটি স্টলেই শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের প্রকল্পের উদ্দেশ্য, কার্যপ্রণালি ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি তুলে ধরে।
মেলার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্কলার্সহোমের একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর জয়নুল আবেদিন চৌধুরী, এবং স্কলার্সহোম টিলাগড় শাখার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামছ উদ্দিন।তাঁরা মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের সৃজনশীল চিন্তা ও উদ্ভাবনী প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের অন্যান্য সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন এবং প্রকল্প উপস্থাপনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, প্রাণবন্ত উপস্থাপনা, সৃজনশীল চিন্তাধারা এবং শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতায় পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় জ্ঞান ও উদ্ভাবনের এক অনন্য উৎসবে। এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের শুধু বৈজ্ঞানিক ধারণাকে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে সংযুক্ত করার সুযোগই দেয়নি; বরং তাদের অনুসন্ধিৎসা, সৃজনশীলতা, যুক্তিবোধ, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা এবং গবেষণামুখী মানসিকতার বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সবশেষে বলা যায়, বিজ্ঞান মেলা ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য শেখা, ভাবা, অনুসন্ধান করা এবং নিজেদের সৃজনশীলতাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার এক আনন্দময় ক্ষেত্র। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের কেবল বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করে তোলে না, বরং তাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করে এবং বিজ্ঞানমনস্ক, সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী প্রজন্ম গড়ে ওঠার পথকে সুদৃঢ় করে। স্কলার্সহোম শিবগঞ্জ শাখার এ আয়োজন তাই শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে এক স্মরণীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ী অধ্যায় হয়ে থাকবে।