এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন ‘আমার এক ভাই তার মাকে মারধর করে। এ অবস্থায় আমার করণীয় কী?’
এর জবাবে ঢাকা বিমানবন্দরের জামিয়া বাবুস সালামের মুফতি ও মুহাদ্দিস মুফতি জাওয়াদ তাহের বলেন, কোনো সন্তান তার মাকে মারধর করলে তা শুধু সামাজিক অপরাধ নয়; ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতেও এটি চরম নিন্দনীয় কাজ এবং মারাত্মক গুনাহ।
তিনি বলেন, ইসলামের অন্যতম মূলনীতি হলো অন্যায় দেখলে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ কোনো অন্যায় হতে দেখলে সে যেন তা হাত দিয়ে বাধা দেয়। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে যেন মুখ দিয়ে বাধা দেয়। আর যদি তাও সম্ভব না হয়, তবে যেন অন্তর দিয়ে ঘৃণা করে। আর এটি ঈমানের দুর্বলতম স্তর।’ (সহিহ মুসলিম: ৪৯)
মা-বাবার ওপর নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটলে প্রথম দায়িত্ব হলো নির্যাতিত মাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া। পরিস্থিতি সম্ভব হলে নির্যাতনকারীকে থামানোর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্বশীল সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানিয়ে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করা যেতে পারে।
মুফতি জাওয়াদ তাহের বলেন, ওই ব্যক্তিকে নির্জনে ডেকে মা-বাবার অবাধ্যতার ভয়াবহ পরিণতি এবং আল্লাহর আজাব সম্পর্কে বোঝানো উচিত। তবে পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় কিংবা মায়ের জীবন ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া জায়েজ। কারণ, নির্যাতিত ব্যক্তিকে রক্ষা করা জরুরি।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত কোরো না এবং মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো।’ (সুরা বনি ইসরাঈল: ২৩)
একই আয়াতে মা-বাবাকে ‘উফ’ না বলা এবং তাঁদের ধমক না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ মা-বাবার সঙ্গে সম্মানজনক ও কোমল আচরণ করা সন্তানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
হাদিসেও মা-বাবার অবাধ্যতার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির জন্য আল্লাহ জান্নাত হারাম করেছেন; নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি, মা-বাবার অবাধ্য সন্তান এবং দাইয়ুস।’ (মুসনাদে আহমাদ: ৫৩৭২)
এ ছাড়া আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো গুনাহের শাস্তি দুনিয়াতেও দ্রুত আসতে পারে বলে হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে। জামে তিরমিজির ২৫১১ নম্বর হাদিসেও এ বিষয়ে সতর্কবার্তা রয়েছে।
অন্য এক হাদিসে মা-বাবার অবাধ্য সন্তানের জন্য আরও কঠোর পরিণতির কথা বর্ণিত হয়েছে। এমন ব্যক্তি জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না যদিও সেই সুঘ্রাণ বহু দূর থেকেও অনুভব করা যায়।
তাই কোনো পরিবারে মা-বাবার ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে বিষয়টি গোপন রেখে দেওয়া নয়; বরং প্রথমে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এরপর পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবার, সমাজ ও প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে নির্যাতনকারী সন্তানকে ইসলামের শিক্ষা ও মা-বাবার অধিকারের বিষয়ে বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে।