স্টাফ রিপোর্ট::: সিলেট চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নিলাম সংক্রান্ত কমিটির উদ্যোগে বিভিন্ন মামলার জব্দকৃত কোটি টাকার আলামত অনলাইন নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। আজ ১৬ জুন অনুষ্ঠিত এই উন্মুক্ত ডিজিটাল নিলামে সিলেটের বিভিন্ন থানার ১৬টি মামলার আলামত সর্বোচ্চ দরদাতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিলামে সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে ভারতীয় জিরার লটগুলো নিয়ে। এর মধ্যে কোম্পানীগঞ্জ, ওসমানীনগর, ফেঞ্চুগঞ্জ ও জৈন্তাপুর থানার ৪টি পৃথক মামলায় জব্দকৃত মোট ১৫ হাজার ৪১০ কেজি ভারতীয় জিরা প্রতি কেজি ৪৪২ থেকে ৪৫০ টাকা দরে কিনে সর্বোচ্চ ডাককারী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন ব্যবসায়ী এম.এম শাহরিয়ার। এছাড়া ফেঞ্চুগঞ্জ থানার অন্য একটি মামলার ৫ হাজার ৭৪৮ পিস গোমেলা ক্রিম প্রতি পিস ৪২ টাকা ৫০ পয়সা দরে কিনেছেন সেলিম আহমদ।
যানবাহন ও অনান্য সামগ্রীর মধ্যে জৈন্তাপুর থানার একটি আরওয়ানফাইভ মোটর সাইকেল ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় এবং একটি পাথর মামলার ৩০৪ ঘনফুট পাথর প্রতি ঘনফুট ৮০ টাকা দরে কিনেছেন মো. আলী হোসেন। একই থানার অপর একটি মামলায় একটি টিভিএস স্কুটি ৫৭ হাজার ১০০ টাকায় কিনে নেন মো. আজির উদ্দিন।
এদিকে কানাইঘাট থানার আলামতভুক্ত ১৯৮ কেজি চিনি প্রতি কেজি ৫৫ টাকা দরে সালাহ উদ্দিন এবং জৈন্তাপুর থানার দুটি গরু ৬০ হাজার ৯৯ টাকায় মিনহাজুল ইসলাম কিনেছেন।
তবে এবারের নিলামের অন্যতম আকর্ষণ কানাইঘাট থানার একটি মামলার ১০ তোলার সোনার বার নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই সোনার বারের বিপরীতে মো. তানিম আহমদ ও মো. আলী হোসেন উভয়ই সর্বোচ্চ ১৭ লক্ষ ৫ হাজার টাকা সমান দর ডাকায়, বিধি মোতাবেক বারটি পুনরায় নিলাম করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালত।
ডিজিটাল এই নিলাম প্রক্রিয়ায় মোট ৩৯ জন দরদাতা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা হলেন- মো. তাহসীন মেহেদী, এম.এম শাহরিয়ার, জুয়েল মিয়া, সিলজীয়া রাইসা রাহেলা, মো. তানিম আহমদ, মো. মুক্তার আহমদ, শাহেদ আহমদ, বাবলু আহমদ, মো. মুহিব চৌধুরী, মাসুদুর রহমান সুমন, ইজাদুর রহমান, সাহেদ আহমদ শিপু, মাহবুব আহমদ সিদ্দীকী, নূরুল ইসলাম সোলাইমান, মো. নূরুল আমিন, মো. আজির উদ্দিন, মো. আলী হোসেন, মিনহাজুল ইসলাম, জুনেদ আহমদ, সেলিম আহমদ, মো. আজমুল রশিদ, মো. হোসেন মিয়া, সামসুদ্দিন, বোরহান উদ্দিন, মো. সালাহ উদ্দিন, জীবন দেব, মো. শিমুল হাসান, মো. আশিক আহমদ, মো. আহসান সাজিদ, সাইফুল ইসলাম সরকার, হাবিবুর রহমান, আব্দুস সাত্তার খান মিন্টু, সাহাদুর রহমান সাজ্জাদ, আরিফুর রহমান পারভেজ, নবীর তালুকদার, মো: সাজু মিয়া, মো. সুরুক আলী, রফি উদ্দিন এবং সালমান আহমদ। তবে সালমান আহমদ কালো তালিকাভুক্ত থাকায় তাঁর দর গ্রহণ করা হয়নি।
আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও নিলাম কমিটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, বিজয়ী দরদাতাদের আগামী ১ কর্মদিবসের মধ্যে নির্ধারিত সরকারি চালানের মাধ্যমে মূল টাকা এবং তার সাথে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১০ শতাংশ আয়কর জমা দিয়ে আলামত বুঝে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply