নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রাধানগর গরুর বাজারের ইজারাদার মো. সিরাজ উদ্দিন অবৈধভাবে পরিচালিত পশুর হাটের কারণে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, উপজেলা প্রশাসনের উদাসীনতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অভাবে সরকার অনুমোদিত ইজারাকৃত বাজারের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সোমবার (১৬ জুন) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গোয়াইনঘাট উপজেলার বাউরবাগ এলাকার বাসিন্দা ও রাধানগর গরুর বাজারের ইজারাদার মো. সিরাজ উদ্দিন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ১৪৩৩ বাংলা সনের জন্য গোয়াইনঘাট উপজেলার রাধানগর গরুর বাজার এক কোটি ১০ লাখ ৫ হাজার ২০০ টাকায় এক বছরের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ইজারা নেন। ইজারা মূল্য, ভ্যাট ও আয়করসহ সরকারের নির্ধারিত সব রাজস্ব পরিশোধের পর প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারটি তার কাছে হস্তান্তর করে।
তবে ইজারা গ্রহণের পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অনুমোদনবিহীনভাবে গরু-ছাগলের হাট বসানো শুরু হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত তহসিলদার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ছবি ও ভিডিওসহ একাধিকবার অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেন সিরাজ উদ্দিন।
তিনি বলেন, অবৈধভাবে পরিচালিত এসব পশুর হাটে ব্যাপক গরু-ছাগল কেনাবেচা হওয়ায় রাধানগর গরুর বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার উপস্থিতি কমে যায়। ফলে বাজারের আয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায় এবং সরকারও সম্ভাব্য রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, গোয়াইন বাজার নৌকার হাটের ইজারাদার অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও সেখানে গরু-ছাগল বিক্রির সুযোগ দিয়েছেন। এছাড়া গোয়াইনঘাট বাজার ও জাফলং এলাকাতেও ইজারার আওতার বাইরে পশুর হাট পরিচালনা এবং খাস আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব বাজারে গরু-ছাগল বিক্রির রসিদ (হাসিল) তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সিরাজ উদ্দিন বলেন, “সরকারের নির্ধারিত নিয়ম মেনে ব্যাংক ঋণের অর্থ দিয়ে বাজার ইজারা নিয়েছিলাম ব্যবসার আশায়। কিন্তু অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণে আমি প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাননি।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত ইজারাদার হিসেবে তার আর্থিক ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ এবং অবৈধ পশুর হাটের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান মো. সিরাজ উদ্দিন।
Leave a Reply