রাজনৈতিক পদকে ঢাল বানিয়ে চোরাচালান, ভয়ভীতি ও নারী হয়রানির অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক :::সিলেটের সীমান্তঘেঁষা জৈন্তাপুর ও আশপাশের এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী চোরাচালান নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা অঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে। ভারতীয় শাড়ি, প্রসাধনী, থ্রি-পিসসহ বিভিন্ন পণ্য অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে দেশে এনে বাজারজাত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো, ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং নারী হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অঞ্জন দাস সিলেট মহানগর যুবদলের সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এবং জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
সীমান্তে নিজস্ব ‘রুট’, নিয়ন্ত্রণে চোরাই পণ্যের নেটওয়ার্ক
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পদ-পদবি ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকায় অঞ্জন দাস একটি নিজস্ব চোরাচালান রুট গড়ে তুলেছেন। ওই রুট ব্যবহার করে প্রতিদিন ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ শাড়ি, প্রসাধনী, থ্রি-পিসসহ বিভিন্ন পণ্য অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
অভিযোগ রয়েছে, সীমান্ত পার হওয়ার পর এসব পণ্য জৈন্তাপুরের চিকনাগুল এলাকায় কালীবাড়ি-পানিছড়া ব্রিজসংলগ্ন একটি নির্দিষ্ট স্থানে সাময়িকভাবে রাখা হয়। পরে একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এসব পণ্য সিলেট নগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মাঝে মধ্যে সেখানে চোরাই পণ্য ‘জব্দ’ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করা হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রতিবাদ করলেই ভয়ভীতি?
অঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, নিজের প্রভাব ধরে রাখতে তিনি এলাকায় একটি প্রভাবশালী অনুসারী বলয় তৈরি করেছেন। চোরাচালান কিংবা অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকে ভয়ভীতি দেখানো, হামলার হুমকি কিংবা মামলা দিয়ে হয়রানির ভয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।
ফলে সীমান্ত এলাকার অনেক বাসিন্দা ও বৈধ ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে দাবি স্থানীয়দের।
নারী হয়রানির অভিযোগেও চাঞ্চল্য
চোরাচালানের অভিযোগের পাশাপাশি অঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে নারী হয়রানি ও ইভটিজিংয়েরও অভিযোগ উঠেছে।
এর মধ্যে ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী এক তরুণীকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগটি এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তৃষা পাল পৌষি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ‘মারিয়া’ নাম ধারণ করেন। ধর্মান্তরের পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব, হুমকি ও মানসিকভাবে হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে অঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে কথা বললে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো কিংবা প্রাণনাশের ভয় দেখানোর মতো হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে আসল চিত্র
জৈন্তাপুর সীমান্তে চোরাচালান, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি এবং নারী হয়রানির অভিযোগগুলো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা, কারা এই নেটওয়ার্কে জড়িত এবং এর পেছনে আরও কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রয়েছে কি না তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের দাবি, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে অঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।