সবসময় ডেস্ক :::সিলেট নগরীর আম্বরখানা পয়েন্টসংলগ্ন ওয়েভস আবাসিক এলাকার শীতলগলির মুখে নির্মিত আব্দুল গাফ্ফার কমপ্লেক্সের পার্কিং প্লেস দখলমুক্ত করতে গত তিন বছরে আটবার তদন্ত এবং ছয়বার নোটিশ দিয়েও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)-এমন অভিযোগ করেছেন ভবনের এক অংশীদার রোকসানা লেইছ ও তাঁর স্বামী মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।
শনিবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে রোকসানা লেইছ প্রশ্ন তোলেন, ‘কার ইশারায় ও মদদে সিসিক পার্কিং প্লেস উদ্ধার করতে পারছে না?’
রোকসানা লেইছ জানান, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমিতে অংশীদারদের যৌথ মালিকানায় তিনতলা ভবনটি নির্মাণ করা হয়। পরে প্রত্যেকে নিজ নিজ হিস্যা অনুযায়ী ভবনের অংশ ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, ভবনের অংশীদার চাচাতো ভাই আব্দুল হাসিব তুহেল, আব্দুল আলিম রাসেল ও তাঁদের চাচি মনোয়ারা বেগম নিয়মবহির্ভূতভাবে ভবনের বর্ধিত অংশ নির্মাণ করেন। পরে পার্কিং প্লেস দখল করে সেটি মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তির কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। সেখানে তিনি ইলেকট্রনিক পণ্যের দোকান পরিচালনা করছেন।
রোকসানার দাবি, পার্কিংয়ের রাস্তার মুখে দোকান নির্মাণ করায় পুরো পার্কিং জোনটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া ভবনের নকশাবহির্ভূত বর্ধিত অংশ নির্মাণের কারণে সড়কে চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব বিষয়ে ২০২৩ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সিসিকের মেয়র বরাবর একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের পর সিটি করপোরেশন তদন্ত করে এবং অভিযুক্ত পক্ষকে একাধিকবার নোটিশ দেয়। তাঁর স্বামী গত তিন বছরে এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনে অন্তত শতবার গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
রোকসানা লেইছ বলেন, সর্বশেষ চূড়ান্ত নোটিশের পর গত ১২ আগস্ট সিসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি দল উচ্ছেদ অভিযানে যায়। তবে কোনো স্থাপনা অপসারণ বা পার্কিং দখলমুক্ত না করেই অভিযানকারী দল ফিরে আসে।
অভিযান থেকে ফিরে আসার কারণ হিসেবে ভবনের অংশীদারত্ব নিয়ে পারিবারিক বিরোধ ও জটিলতার কথা উল্লেখ করে দেওয়ানি আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান রোকসানা। তবে এ যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রোকসানা বলেন, ‘ভবনের বর্ধিত অংশ অপসারণ ও পার্কিং প্লেস উদ্ধারের বিষয়টি কীভাবে পারিবারিক বা সম্পত্তির বিরোধ হয়? বিষয়টি সিসিকের এখতিয়ারভুক্ত হওয়ার পরও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় তারা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারছে না।
সিসিকের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সিসিক উচ্ছেদে গিয়ে মনে হয়েছে তারা যেন কনে দেখতে গিয়েছিল। নকশা পরিবর্তন ও বিল্ডিং কোড অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া রহস্যজনক। অর্থের বিনিময়ে হোক কিংবা কারও ইশারায়; সিসিক নিজের দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। কার স্বার্থে সিসিক কাজ করছে?
তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশন যদি নকশাবহির্ভূত নির্মাণ ও দখলমুক্ত করার মতো নিজস্ব এখতিয়ারভুক্ত কাজও করতে না পারে, তাহলে নগরবাসী কেন কর দেবে?
সংবাদ সম্মেলনে রোকসানা লেইছ বিষয়টি পুনরায় গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে পার্কিং প্লেস ও নকশাবহির্ভূত বর্ধিত অংশ দখলমুক্ত করতে সিসিক প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান।