কানাইঘাট প্রতিনিধি:::প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে এক যুবককে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে উল্টো কানাইঘাট থানা পুলিশের হাতে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ গ্রেফতার হয়েছেন লতিফা বেগম নামের এক নারী। গ্রেফতারকৃত লতিফা বেগম উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বড়বন্দ ২য় খন্ড সিঙ্গারীপাড় গ্রামের বিলাল আহমদ হুজুরির স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় পার্শ্ববর্তী জৈন্তাপুর উপজেলার বালিদ্বারা গ্রামের সামছুল ইসলামের পুত্র জাহিদুল ইসলাম নামের এক যুবকের সাথে লতিফা বেগমের মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বর্তমানে লতিফা বেগম তার মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দিয়েছেন এবং জাহিদুল ইসলামও অন্যত্র বিয়ে করে ঘর সংসার করছে। কিন্তু এখনো জাহিদুল ইসলাম পূর্বের প্রেমিকা ঐ মেয়ের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে।
এ নিয়ে একাধিক সালিশ হলেও জাহিদুল মোবাইল ফোনে কথা বলা বন্ধ করেনি। যার কারনে লতিফা বেগম ও তার স্বামী বিলাল আহমদ দীর্ঘদিন ধরে জাহিদের উপর ক্ষিপ্ত ছিল।
একপযার্য়ে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে জাহিদুল ইসলাম, লতিফা বেগমের পার্শ্ববর্তী আব্দুল করিমের বাড়িতে সাপে কাটা রোগীর বিষঝাড়ানো দেখতে আসে। এ সময় লতিফা বেগম সেখানে গিয়ে তার মেয়েকে ডিস্টার্ব করছে বলে জাহিদুল ইসলাম শার্টের কলার ধরে টেনে তার বসত বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে জাহিদকে আটক করে তার কাছে ২০ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে লতিফা বেগম আশপাশের লোকজনকে বলতে থাকে।
এতে অনেকের সন্দেহ হলে তারা স্থানীয় ইউপি সদস্য জামিল আহমদকে খবর দেন। ইউপি সদস্য লতিফার বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানান। তাৎক্ষণিক থানার এসআই আশীষ চন্দ্র তালুকদার একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।
সেখানে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে লতিফা বেগম জানায় তাহার স্বামী বিলাল হুজুরির যোগসাজসে তারা জাহিদুল ইসলামকে ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার জন্য ২০ পিস ইয়াবা দিয়ে এমন কান্ড ঘটিয়েছে। এ সময় ২০ পিস ইয়াবা সহ পুলিশ লতিফা বেগমকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসেন।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে লতিফা ও তার স্বামী বিলালকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জানান, পুলিশের নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান চলছে। নিরীহ কাউকে ইয়াবা কিংবা মাদক দিয়ে হয়রানী করা যাবে না, এ জন্য পুলিশ সজাগ রয়েছে। লতিফা বেগম ও তার স্বামী বিলাল হুজুরি ইয়াবা দিয়ে জাহিদ নামের একজনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পুলিশের সচেষ্ট ভুমিকায় তা সম্ভব হয়নি।