সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন করে মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে মেয়াদ বাড়ানো হলেও কাজের গতি কতটা বাড়বে এবং বর্ধিত সময়ের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করা সম্ভব হবে কি না, -তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রেলপথটি বন্ধ থাকায় এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সড়কপথের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। এতে যাত্রীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বিশেষ করে ছাতকের শিল্পাঞ্চল ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য এই রেলপথকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
সিলেট রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ পারভেজ জানিয়েছেন, প্রকল্পের আওতায় মোট ৯৬টি ফাইলিং পয়েন্ট রয়েছে। এর মধ্যে ৮৫টির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। পাশাপাশি মাটি ভরাট ও কালভার্ট নির্মাণের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, “৯৬টি ফাইলিং পয়েন্টের মধ্যে ৮৫টির কাজ শেষ হয়েছে। মাটি ভরাট ও কালভার্টের কাজও দ্রুত চলছে।”
তবে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি রয়েছে প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ।
প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ ২৩ আগস্ট শেষ হয়েছে। ফলে এখন নতুন করে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্পের কাজ শেষ করতে নতুন করে সময় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন শুধু মেয়াদ বাড়ালেই কি কাজের গতি বাড়বে?
তাদের মতে, প্রকল্পের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেলেও যেখানে মাত্র এক-চতুর্থাংশ কাজ শেষ হয়েছে, সেখানে বাকি তিন-চতুর্থাংশ কাজ দ্রুত শেষ করতে হলে বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। শুধু সময় বাড়িয়ে প্রকল্পকে দীর্ঘায়িত করা হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বিভিন্ন জটিলতা ও ধীরগতির কারণে প্রকল্পের সময় আরও বাড়তে পারে। এতে রেলপথ চালু হওয়ার অপেক্ষাও দীর্ঘ হতে পারে।
সিলেট-ছাতক রেলপথ এই অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। দীর্ঘদিন ধরে রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও নানা সমস্যার মুখে পড়ছে।
বিশেষ করে ছাতকের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পণ্য পরিবহনে রেলপথের গুরুত্ব রয়েছে। রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু হলে কম খরচে বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সড়কপথের ওপর চাপও কমবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, রেল যোগাযোগ চালু হলে ছাতকের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসতে পারে। শিল্পকারখানার কাঁচামাল আনা এবং উৎপাদিত পণ্য বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোর ক্ষেত্রেও রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা রেলপথের সংস্কারকাজ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এক ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হলেও ধীরগতির কারণে সেই প্রত্যাশা এখন অনেকটাই হতাশায় পরিণত হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি কাজের গতি বাড়াতে হবে। যেসব জায়গায় প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে।
একই সঙ্গে নির্মাণকাজের মান নিয়েও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের বক্তব্য, দ্রুত কাজ শেষ করার নামে যেন নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার বা কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়। কারণ নিম্নমানের নির্মাণকাজ হলে ভবিষ্যতে আবারও রেলপথ সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে।
প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ কতদিনে শেষ হবে?
নির্ধারিত সময় ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এখন যদি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়, তাহলে নতুন সময়সীমার মধ্যে বাস্তবেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এবার যেন শুধু সময় বাড়ানোর মধ্যে প্রকল্প সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং মাঠপর্যায়ে কাজের গতি দৃশ্যমানভাবে বাড়িয়ে দ্রুত রেলপথটি চলাচলের উপযোগী করা হবে।
সিলেট-ছাতক রেলপথ পুনরায় চালু হলে শুধু যাত্রীদের যোগাযোগব্যবস্থাই সহজ হবে না; এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে স্থানীয় অর্থনীতিতেও। কম খরচে যাতায়াতের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে নতুন সুযোগ তৈরি হবে। ছাতকের শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রকল্পের জটিলতা নিরসন করে কাজের গতি বাড়াবে এবং নির্ধারিত নতুন সময়সীমার মধ্যেই সংস্কারকাজ শেষ করবে।
তবে এখন সিলেট-ছাতকবাসীর একটাই প্রশ্ন ২৫ শতাংশ কাজ শেষ হতেই যেখানে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে, সেখানে বাকি ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হবে কবে? আর কবে আবার সিলেট-ছাতক রেলপথে শোনা যাবে ট্রেনের হুইসেল?