নিজস্ব প্রতিবেদক :::: সিলেট সদর উপজেলার ৬নং টুকেরবাজার ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরনগর, গোয়াবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় আবারও প্রকাশ্যে পাহাড় ও টিলা কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের আগের অভিযান ও মামলা সত্ত্বেও একটি প্রভাবশালী চক্র নতুন উদ্যমে পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে টিলা কাটা ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের প্রতিবাদকারীদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে, যা এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস ধরে এক্সকাভেটর ব্যবহার করে টিলা ও পাহাড়ের মাটি কেটে ট্রাক ও ডাম্পারযোগে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের নজর এড়াতে দিনের পাশাপাশি রাতের বেলাতেও মাটি পরিবহন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং ভূমির স্থিতিশীলতা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর গ্রামের মৃত ময়না মিয়ার ছেলে, স্থানীয়ভাবে পরিচিত হাফিজ মেম্বার। তাঁর সহযোগী হিসেবে মিনাল, মতিন মিয়া, বিরাজুল, মুহিবুর, ইকবাল, রাজু মিয়া ও রুবেল মিয়াসহ আরও কয়েকজন সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
বাসিন্দারা জানান, এর আগেও অবৈধ টিলা কাটার অভিযোগে হাফিজ মেম্বারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা হয়েছিল। ওই সময় কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বর্তমানে পুনরায় একইভাবে টিলা কাটার কাজ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে টিলা কাটা ও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সম্প্রতি এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। জিডিতে এক নারী অভিযোগ করেন, হাফিজ মেম্বার ও তাঁর সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। অভিযোগের পর থেকে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিদের মতে, সিলেট অঞ্চলে নির্বিচারে পাহাড় ও টিলা কাটা অব্যাহত থাকায় বর্ষাকালে ভূমিধস, মাটির ক্ষয় এবং জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। বসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, পাহাড়-টিলা ধ্বংসের পাশাপাশি অভিযোগকারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ টিলা কাটা স্থায়ীভাবে বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
Leave a Reply