সবসময় ডেস্ক :::সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে সুন্দরভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না। একটু জটিল সমস্যা হলেই সিলেটে দৌড়াতে হয়, যা একজন দরিদ্র মানুষের জন্য কষ্টকর। সুনামগঞ্জের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে সকলকে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু হলে সুনামগঞ্জবাসীই উপকৃত হবেন। জাতির স্বার্থে ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের স্বার্থে দ্রুত সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু করতে হবে। সুনামগঞ্জবাসীর স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার (২৯জুন) সকালে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলফাত স্কয়ারে বিক্ষোভ-সমাবেশে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন বক্তারা। সমাবেশে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন।
সুনামগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা বলেন, সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দ্রুত চালু করতে আপনারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানান। ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট ১০ তলা হাসপাতালটি অকারণে ফেলে রাখায় কীটপতঙ্গের বাসস্থানে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৪ জুন, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু করার কথা থাকলেও হয়নি। ২০২৬ সালে এসেও তারা আমাদের অযুহাত দিচ্ছে এটা হয়নি, ওটা হয়নি।
বক্তারা বলেন, কর্তৃপক্ষে তৎপরতায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ৩ মাসের মধ্যে চালু করা সম্ভব হলে, সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ কেন এতো বছরেও চালু হলো না! কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর আশ্বাসে আমরা হতাশ। এখন আমরা সরকারের কাছ থেকে লিখিত ভাবে হাসপাতাল চালুর রোডম্যাপ জানতে চাই।
প্রসঙ্গত, হাসপাতাল চালু, একাডেমিক কার্যক্রম যথাযথভাবে নিশ্চিত ও পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাসের দাবিতে দাবিতে ২১ জুন থেকে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করে আসছে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ৫ বছর হলেও কেন এখনও চালু হয়নি উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ক্লিনিক্যাল ক্লাস না করলে শিক্ষার্থীরা ডাক্তার হবে কিভাবে। হাসপাতালের ব্যবস্থা না করে মেডিকেল কলেজ চালু করে শিক্ষার্থী ও সুনামগঞ্জবাসীর সাথে কেন প্রবঞ্চনা করা হলো। দ্রুত হাসপাতাল চালু করতে সুনামগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষকে রাজপথে নামতে হবে।
একদিন রাজপথে নামলেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ভূমিকম্প তোলা সম্ভব। আমরা আর প্রতিশ্রুতি চাই না। হাসপাতাল চালু না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
Leave a Reply