ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনো মিলছে জীবনের খোঁজ। দুর্যোগের চার দিন পর একটি ধসে পড়া ভবনের ভেতর থেকে এক বাবা ও তার ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। এই সফল উদ্ধার অভিযানে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেওয়া আন্তর্জাতিক দলগুলোর মধ্যে।
রোববার উপকূলীয় লা গুইরা শহরে দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালিত তল্লাশি অভিযানের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা দুজনকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার শেষে কাপড়ের তৈরি অস্থায়ী স্ট্রেচারে করে তাদের অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হয়। সে সময় আশপাশে জড়ো হওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা করতালির মাধ্যমে উদ্ধারকর্মীদের অভিনন্দন জানান। বাবা-ছেলে দুজনই শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন এবং তাদের মুখে অক্সিজেন মাস্ক পরানো ছিল।
উদ্ধারকারীরা জানান, ধ্বংসস্তূপের ভেতরে পৌঁছাতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হয়েছে। বিশেষ সার্চ ক্যামেরা ও আধুনিক অনুসন্ধান সরঞ্জামের সাহায্যে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। প্রায় ১২ ঘণ্টার টানা প্রচেষ্টার পর তাদের নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়।
এই উদ্ধার অভিযানে ফরাসি সিভিল সিকিউরিটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি আরবান সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম যৌথভাবে কাজ করছে। এর আগের দিন একই দল ধ্বংসস্তূপ থেকে এক মা ও তার নয় মাস বয়সী শিশুকেও জীবিত উদ্ধার করেছিল।
উদ্ধারকাজের সময় আটকে পড়া ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানোর আগে চিকিৎসাকর্মীরা স্যালাইনের ব্যবস্থা করেন এবং ধ্বংসস্তূপের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ ধীরে ধীরে সরিয়ে নিরাপদ পথ তৈরি করেন। একই সময়ে অন্য সদস্যরা ধ্বংসস্তূপের বিভিন্ন স্থানে জীবিত মানুষের সম্ভাব্য উপস্থিতি শনাক্ত করতে অনুসন্ধান চালিয়ে যান।
গত বুধবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় লা গুইরা অঞ্চল। এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, যা উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের শেষভাগে অন্তত ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা ততই কমে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সাধারণত উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। তবুও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশা ছাড়ছেন না উদ্ধারকর্মীরা।
Leave a Reply