গোয়াইনঘাটপ্রতিনিধি ::: সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা ওমর ফারুক। শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি গোয়াইনঘাট থানার কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব নেন।
পুলিশ প্রশাসনের নিয়মিত রদবদলের অংশ হিসেবে তাকে গোয়াইনঘাট থানায় পদায়ন করা হয়েছে। এর আগে তিনি বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান এবং জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনায় তিনি প্রশংসা অর্জন করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব পালনে দক্ষতা, সততা, পেশাদারিত্ব ও কর্মনিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি তিনবার সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নির্বাচিত হয়ে সম্মাননা লাভ করেন। মাঠপর্যায়ে কার্যকর নেতৃত্ব, অপরাধ দমনে দৃঢ় অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার অভিজ্ঞতার কারণে তাকে গোয়াইনঘাট থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত ওসি ওমর ফারুক বলেন, গোয়াইনঘাটে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জন্য দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর পুলিশি সেবা নিশ্চিত করাই হবে তার প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, “আইনের চোখে সবাই সমান। কোনো অপরাধী কিংবা অপরাধকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী এই উপজেলায় মাদক, চোরাচালান, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং, চুরি, ডাকাতি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গোয়াইনঘাট থানা কঠোর অবস্থানে থাকবে। বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। অপরাধ দমনে তথ্যভিত্তিক অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
ওসি ওমর ফারুক বলেন, পুলিশের একার পক্ষে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। এজন্য জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের সচেতন জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। জনগণের সহযোগিতা নিয়েই একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত গোয়াইনঘাট গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, নতুন ওসির নেতৃত্বে গোয়াইনঘাট থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুসংহত হবে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ আরও আন্তরিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব পুলিশি সেবা পাবেন বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, পুলিশ প্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন থানায় কর্মকর্তাদের পদায়ন ও বদলি করা হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জনসেবামূলক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
Leave a Reply