উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর দুটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতির ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।
সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি কমতে পারে, এতে দুই জেলার নদী-তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রধান অববাহিকা ও জোনভিত্তিক নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসে কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী ইমন কল্যাণ দাসের সই রয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কুশিয়ারার পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও একই সময়ে সুরমা নদীর পানি কমেছে।
সংস্থাটি বলছে, আগামী তিন দিনের মধ্যে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি হ্রাস পেতে পারে। এর প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হতে পারে।
এদিকে দেশের অন্যান্য বড় নদ-নদীর পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে। এ প্রবণতা আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এ সময় নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মনু, ধলাই, খোয়াই ও সারিগোয়াইন নদীর পানিও গত এক দিনে বেড়েছে। তবে আগামী তিন দিনের মধ্যে এসব নদীর পানিও কমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
রংপুর বিভাগের নদ-নদীর মধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী তিন দিনেও এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
এদিকে আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি নিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং এর আশপাশের উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থানরত লঘুচাপটি একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার প্রভাব আবহাওয়া ও নদ-নদীর পরিস্থিতিতে পড়তে পারে।
Leave a Reply