গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি ::: সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র জাফলংয়ে বিজিবি ক্যাম্প-সংলগ্ন সরকারি খাসজমি দখল করে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও দোকানপাট নির্মাণের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। তদন্তে প্রায় ৪ দশমিক ৮৬ একর সরকারি খাসজমি দখল করে অন্তত ৫০টি দোকান ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় আট ব্যবসায়ীকে দখলদার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন গোয়াইনঘাট উপজেলার নলজুরী এলাকার আবদুল কুদ্দুছ ও ফারুক আহমদ, লাখেরপাড় এলাকার আলম বখত, বাবুল বখত, রায়হান ও উমর আলী, মোহাম্মদপুর এলাকার আনোয়ার হোসেন (জুবের আহমদ) এবং জৈন্তাপুর উপজেলার কানিকপাড়া এলাকার নুরুজ্জামান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা ভূমি অফিসের নির্দেশে ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় সরেজমিন তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্ত শেষে গত ২৪ জুন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আবদুল মোনায়েম প্রতিবেদনটি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে জমা দেন। পরে তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারীর কাছে পাঠানো হয়।
ইউএনও তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে গত ১৩ জুলাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে তা প্রেরণ করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোয়াইনঘাট উপজেলার চৈলাখেল তৃতীয় খণ্ড মৌজার সরকারি খাসজমির একটি অংশ বিজিবি অধিগ্রহণ করলেও অবশিষ্ট প্রায় ৪ দশমিক ৮৬ একর জমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে সেখানে হোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকানপাটসহ বিভিন্ন পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে এসব স্থাপনায় নিয়মিত ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা ৫০টি দোকান ও স্থাপনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদ, সরকারি জমি পুনরুদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
সরকারি খাসজমি দখলের এই ঘটনা জাফলংয়ের ভূমি ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।
Leave a Reply