সারাদেশে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় ৪ বিভাগে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে পাহাড়ধসের শঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বেড়ে নতুন করে বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের (এফএফডব্লিউসি) একাধিক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানা গেছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের সতর্কবার্তায় জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী (৮৮ মিলিমিটারের বেশি) বর্ষণ হতে পারে। অতিভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীতে দেশের সর্বোচ্চ ১২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ঝোড়ো হাওয়ার শঙ্কায় খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের দুটি নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ সকালে গাইবান্ধার তারাপুর পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছিল।
আগামী তিন দিন ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার কিছু স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
পাশাপাশি আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কিছু স্থানেও নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তবে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীসংলগ্ন গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। এছাড়া গঙ্গা-পদ্মা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী নদীর পানি আগামী দুই দিন বৃদ্ধি পেতে পারে।
Leave a Reply