সবসময় ডেস্ক :::ইজারাবহির্ভূত এলাকায় অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন; স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযান টের পেয়ে পালিয়েছেন প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের তিন সদস্য
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ইজারাবহির্ভূত লোনী এলাকার ‘কইনা জঙ্গল’ (কন্যা জঙ্গল) এলাকায় অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের টাস্কফোর্স। অভিযানে বালু উত্তোলনের বিপুল সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে আটক ১২ শ্রমিককে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে অভিযানের পরও অবৈধ বালু বাণিজ্যের কথিত মূলহোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত গোয়াইনঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকারিয়া হোসেনের নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লোনী এলাকার কইনা জঙ্গলে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টাস্কফোর্স সেখানে অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ২টি বড় ড্রেজার মেশিন, ৬টি বড় নৌকা এবং বালু পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ২৫টি পাইপ ধ্বংস করে।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আটক ১২ শ্রমিককে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবৈধ বালু উত্তোলনের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মূলহোতারা অভিযান শুরুর আগেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পরিবেশ ধ্বংস করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে আসছিল। অভিযানের খবর পেয়ে তারা আত্মগোপনে চলে যান।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুবদল নেতা জুবের আহমদ এবং বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের নেতা কামরুল ইসলাম ও খাইরুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু শ্রমিকদের সাজা দিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের ছাড় দিলে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হবে না। তাই এই বাণিজ্যের নেপথ্যে থাকা মূলহোতাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের দুটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকারিয়া হোসেন বলেন, “ইজারাবহির্ভূত এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।
জনস্বার্থ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যেই হোক, কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”
Leave a Reply