নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট নগরীর মদীনা মার্কেট ও আশপাশ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের একটি অসাধু চক্রকে ‘ম্যানেজ’ করে প্রকাশ্যে অনলাইন জুয়া, তীর খেলা ও মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবলীগ নেতা জুনেদ আহমদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের দাবি, বারবার অভিযোগ উঠলেও রহস্যজনক কারণে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধচক্রটি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মৃত আব্দুল মোছব্বিরের ছেলে জুনেদ আহমদ মদীনা মার্কেটের নূর মোহাম্মদ রোড, আখালিয়া, পুরানবাজার, নয়াবাজার, পাঠানটুলা ও রাগীব আলী এলাকাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অনলাইন জুয়া, তীর খেলা ও মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তার সিন্ডিকেটের পেছনে প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা এবং স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা থাকায় এসব কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন এসব স্পটে লাখ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন হয়। এর প্রভাব হিসেবে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মাদকাসক্তি এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিস্তারে বিপথে যাচ্ছে তরুণ সমাজ, আর সামাজিক অস্থিরতার মুখে পড়ছে অসংখ্য পরিবার।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জুনেদ আহমদ অতীতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১০ জুন পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে জুয়া ও মাদকসংক্রান্ত মামলায় তাকে আটক করা হয়েছিল। তবে পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবারও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, অপরাধচক্রটির ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। তাদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং মদীনা মার্কেটসহ আশপাশের এলাকাকে জুয়া ও মাদকের ভয়াল থাবা থেকে মুক্ত করা হয়।
অভিযুক্ত জুনেদ আহমদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply