হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যায় দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই বাঁধ দুর্বল হয়ে ভেঙে গেছে। এতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও সড়ক তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে নদী রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দা ইমান আলী বলেন, “হঠাৎ এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে কল্পনাও করিনি। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। কিন্তু এত পানির মাঝেও আমরা এখন বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে ভুগছি।”
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মতিউর রহমান বলেন, “বন্যার পানিতে আমার সবজি ক্ষেত ও ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে চরম বিপদে আছি। সরকারের সহযোগিতা পেলে কোনোভাবে বেঁচে থাকতে পারব।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, খোয়াই নদী থেকে বছরের পর বছর অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীর ও প্রতিরক্ষা বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। তারা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদী শাসন এবং স্থায়ীভাবে তীর সংরক্ষণের কার্যকর উদ্যোগ না নিলে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
লস্করপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উজ্জ্বল মিয়া বলেন, “এমন ভয়াবহ বন্যা এই এলাকায় আগে দেখিনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে এবং আটটি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রাখা হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।”
এদিকে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, খোয়াই নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করায় প্লাবিত এলাকা থেকে ধীরে ধীরে পানি নামছে। সংস্থাটির নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, “ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে বাঁধ পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।”
জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ জি কে গউছ বলেন, “অনেকেই অভিযোগ করেছেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণেই বাঁধ ভেঙেছে। খোয়াই নদী থেকে বালু উত্তোলনের কোনো বৈধ ইজারা নেই। যারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নদী সংরক্ষণ ও টেকসই বাঁধ নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে।
Leave a Reply