জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। দীর্ঘ চার দশক পর এই গুরুত্বপূর্ণ পদে লড়াই করছে বাংলাদেশ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনে বিজয়ী হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে, তবে এর থেকে বাড়তি কোনো রাষ্ট্রীয় সুবিধা মিলবে না।
এর আগে প্রায় ৪০ বছর আগে ১৯৮৬ সালে ৪১তম অধিবেশনে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রখ্যাত কূটনীতিক হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। তার দীর্ঘ চার দশক পর আবারো ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি পদে প্রার্থী হলো বাংলাদেশ।
সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদটি এবার এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত। এই পদের জন্য বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। বাংলাদেশের পক্ষে এই লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। নির্বাচনে জয়ী হলে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়লেও দেশের জন্য সরাসরি খুব বেশি বাড়তি সুবিধা আসবে না বলে মনে করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান।
তিনি বলেন, “এই পদের জন্য কোনো পুরস্কার দেওয়া হয় না, তাই সেই দিক থেকে লাভের হিসাব করা ঠিক হবে না। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি যেখানেই দায়িত্ব পালন করতে যাবেন—সেটা কোনো সমঝোতা আলোচনা (নেগোসিয়েশন) হোক কিংবা প্রতিনিধিত্ব (রিপ্রেজেন্টেশন); সব জায়গাতেই তিনি বাড়তি একটি সমীহ ও সম্মান পাবেন। আর এটাই হবে বাংলাদেশের জন্য বড় প্রাপ্তি।”
আগামী ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ কক্ষে এই নির্বাচন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজয়ী হলে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের গুরুত্ব অনেক বাড়বে বলে মনে করেন ইউনিভার্সিটি অফ কেন্টাকির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নির্ঝর সাকিব।
তিনি মন্তব্য করেন, “এর ফলে বাংলাদেশ বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে পরিচিতি পাবে এবং লাইমলাইটে আসবে। আশা করা যায়, ড. খলিলুর রহমান অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করবেন। এতে করে অনেক দেশই বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে। এখন বড় বিষয় হলো, এই আগ্রহটাকে আমরা কীভাবে ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে পারি।”
উল্লেখ্য, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে।
Leave a Reply