সবসময় ডেস্ক :::সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার পাটলাই নদীতে টোল বৃদ্ধির প্রতিবাদে ছয় দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন পণ্যবাহী নৌযানের শ্রমিক ও চালকেরা। তাদের অভিযোগ, পূর্বঘোষণা ছাড়াই প্রতি টনে টোলের হার দ্বিগুণ করায় তারা পণ্য পরিবহন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। এতে নদীপথে কয়লা ও চুনাপাথর পরিবহন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
আন্দোলনরত নৌশ্রমিকেরা জানান, গত ১ জুলাই থেকে তারা পাটলাই নদীতে নৌযান নোঙর করে অবস্থান করছেন। সোমবার পর্যন্ত এ সমস্যার সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তাদের অভিযোগ।
স্থানীয় শ্রমিকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে পাটলাই নদীতে চলাচলকারী পণ্যবাহী নৌযান থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। গত ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতি টন কয়লা ও চুনাপাথরের জন্য ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা টোল দিতে হতো। তবে জুলাইয়ের শুরু থেকে বিআইডব্লিউটিএর নতুন ইজারাদার প্রতিষ্ঠান তাহিয়া স্টোন ক্রাশার প্রতি টনে ৭০ টাকা টোল দাবি করছে। এতে প্রতিটি ট্রিপে পরিবহন ব্যয় কয়েক হাজার টাকা বেড়ে যাচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা ও বাল্কহেডচালক রশিদ মিয়া বলেন, গত ১ জুলাই তাহিরপুরের ডাম্পের বাজার থেকে প্রায় ২৬০ টন চুনাপাথর নিয়ে ঢাকার কাঞ্চপুরের উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু পাটলাই নদীর কামালপুর এলাকায় টোলঘাটে পৌঁছানোর পর আগের হারের পরিবর্তে প্রতি টনে ৭০ টাকা টোল দাবি করা হয়। এতে তারা নৌযান নদীতেই নোঙর করে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
আরেক নৌশ্রমিক মনফর মিয়া বলেন, কয়েক দিন ধরে নদীতে আটকে আছেন তারা। আশপাশে বাজার নেই, বিশুদ্ধ পানিরও সংকট রয়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে মানবেতর পরিস্থিতিতে দিন কাটছে।
তাহিরপুরের বাজিতপুর এলাকার নৌশ্রমিক হোসাইন বিল্লা বলেন, নতুন হারে টোল দিতে হলে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। তার অভিযোগ, টোল দিতে আপত্তি জানালে অনেক সময় নৌযানের শ্রমিক ও চালকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করা হয়। এসব কারণে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
টোল বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে পাটলাই নদীর বিআইডব্লিউটিএ জেটিতে যোগাযোগ করা হলে সেখানে দায়িত্বরত কর্মচারী শাহীন আলম বলেন, টোল বৃদ্ধির বিষয়ে তার কোনো তথ্য জানা নেই। এ বিষয়ে কথা বলার মতো দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা তখন জেটিতে উপস্থিত ছিলেন না।
ইজারাদার প্রতিষ্ঠান তাহিয়া স্টোন ক্রাশারের মালিক নাছির মিয়া বলেন, গত বছর ইজারামূল্য ছিল চার কোটি টাকা, এবার তা বেড়ে সাত কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত হারের কারণেই টোল বাড়ানো হয়েছে।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মতিউর রহমান খান বলেন, বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply