দেখলে মনে হবে গো-চারণভূমি। অথচ একসময় এই জায়গায় ছিল স্বচ্ছ জলের দীঘি। স্থানীয় লোকজন গোসল করতেন দীঘিতে। বাসা-বাড়ির কাজেও ব্যবহার হতো দীঘির পানি। কিন্তু দীর্ঘদিনের দূষণ এবং সংস্কার ও ব্যবস্থাপনার অভাবে অস্তিত্ব হারিয়েছে দীঘিটি। তিলে তিলে নিঃশেষ হলেও খোজারখলা দীঘি নামের এই জলাধারটির কান্না এতোদিন পৌঁছায়নি কারও কানে।
শুধু খোজারখলা দীঘি নয়, সিলেট নগরীর অন্তত দুইডজনের বেশি দীঘি এভাবেই হারিয়ে গেছে দখল-দূষণে। দীঘির নামে নামকরণ হওয়া এলাকা থাকলেও অস্তিত্ব নেই দীঘির। সবচেয়ে বেশি দীঘি ভরাট করেছে খোদ সিলেট পৌরসভা ও পরবর্তীতে সিটি করপোরেশন। উন্নয়নের নামে দীঘি ভরাট করে সরকারি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে স্থাপনা। আর ব্যক্তি মালিকানাধীন দীঘিগুলো একের পর এক ভরাট করা হলেও প্রশাসন ছিল নিরব দর্শক। গেল কয়েক বছর ধরে নগরীতে ভয়াবহতা জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় জলাধারগুলোর গুরুত্ব টের পাচ্ছে নগরভবন। ফলে দীঘি সংস্কার ও রক্ষায় কিছুটা হলেও নড়েচড়ে বসেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।
ধোপাদীঘির একাংশ ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে পার্ক ও মসজিদ। রেডক্রিসেন্টও ভরাট করেছে দীঘির একাংশ। ইলেকট্রিক সাপ্লাই দীঘিটি ভরাট করে পিডিবি নির্মাণ করেছে অবকাঠামো। ব্যক্তিমালিকানাধীন হওয়ায় মাছুদীঘি, রামেরদীঘিসহ বেশ কয়েকটি দীঘি ভরাট করে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়েছে। এখনো যেসব দীঘির অস্তিত্ব টিকে আছে সেগুলোর বেশিরভাগই দূষণের শিকার। সিসিকের উদ্যোগে কিছু দীঘি উদ্ধার করে বেষ্টনি দেওয়া হলেও দূষণের কারণে সেগুলোর পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া অরক্ষিত অবস্থায় থাকা দীঘিগুলো দিন দিন বেদখল হচ্ছেই। এছাড়া নগরীর ভেতরের দুবড়ির হাওর ভরাট করে সরকারি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে শাহজালাল উপশহর নামে বিশাল আবাসিক এলাকা। কয়েদির হাওরে হয়েছে ক্রীড়া কমপ্লেক্স, বিশাল বিশাল অট্রালিকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
একের পর এক জলাশয় ও জলাধার ভরাট হওয়ায় নগরীতে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। জলাধারগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় ভারি বৃষ্টি হলেই ছড়া ও খাল ভরে গিয়ে বাসা-বাড়ি ও সড়কে ওঠে যায় পানি। এছাড়া কোথাও অগ্নিকাÐের ঘটনা ঘটলেও অগ্নিনির্বাপনের জন্যও পানি পাওয়া দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমতাবস্থায় সিসিক নগরীর ভেতরের জলাশয়গুলো উদ্ধার ও সংস্কারে কিছুটা মনযোগী হয়েছে। পরিদর্শন শেষে খোজারখলা দীঘি উদ্ধারের ঘোষণা দিয়ে সিসিকের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী জানান, সংস্কার করে দীঘিটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। এছাড়া সিলেট নগরীতে আরও যতগুলো দীঘি এখনো বিদ্যমান আছে সেগুলো রক্ষায়ও সিটি করপোরেশন উদ্যোগ নিয়েছে।
সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর জানান, দীর্ঘদিন ধরে সিলেট শহরের পুকুর, দীঘি ও জলাশয় দখল হয়েছে। জলাধারগুলো ধ্বংস হওয়ায় এখন জলাবদ্ধতায় নাকাল হতে হচ্ছে নগরবাসীকে। সিসিকের উদ্যোগে কয়েকটি দীঘি রক্ষা করা হয়েছে। যেসব দীঘি দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে সেগুলোর তালিকা তৈরি করা হয়েছে। শিগগির এগুলো রক্ষায় কাজ শুরু হবে।
Leave a Reply