নিজস্ব প্রতিবেদক ::: ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মানুষের দান ও অনুদান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি আবারও সামনে এনেছেন সমাজসেবক ও জনউদ্যোক্তা ফাহিম আল চৌধুরী। তার বক্তব্য, মাজারের দানবাক্সে জমা হওয়া প্রতিটি টাকা সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, ভালোবাসা ও আস্থার প্রতীক। তাই সেই অর্থের হিসাবও হওয়া উচিত জনগণের সামনে উন্মুক্ত ও স্বচ্ছভাবে।
তিনি বলেন, দানবাক্স খোলার সময় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, মাজার কর্তৃপক্ষ, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে অর্থ গণনা এবং আনুষ্ঠানিকভাবে হিসাব প্রকাশের ব্যবস্থা করা হলে মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা প্রশ্নেরও সুযোগ থাকবে না।
ফাহিম আল চৌধুরীর মতে, স্বচ্ছতা কখনো কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়; বরং এটি একটি সুশাসনের ভিত্তি। যে প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা থাকে, সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের বিশ্বাসও বহুগুণে বাড়ে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ দানবাক্সে জমা হয় ধর্মীয় বিশ্বাস ও মানবকল্যাণের উদ্দেশ্যে। তাই সেই অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে এবং কোন খাতে ব্যবহার করা হচ্ছে এসব বিষয়ে জনসম্মুখে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা সময়ের দাবি।
এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সত্য ও স্বচ্ছতার পক্ষে কথা বলা সব সময় সহজ নয়। অনেক সময় সমালোচনা, অপপ্রচার কিংবা নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। তবুও জনস্বার্থ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রশ্নে আপস করা উচিত নয়।
সুশাসন বিশ্লেষকদেরও মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দান-অনুদান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে। পাশাপাশি দানের অর্থ যথাযথভাবে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের বিষয়েও জনগণের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি হবে।
ফাহিম আল চৌধুরী বলেন, “আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে চাই, যেখানে প্রতিটি দানের হিসাব হবে স্বচ্ছ, প্রতিটি টাকার জবাব থাকবে জনগণের কাছে এবং মানুষের বিশ্বাস থাকবে অটুট। কারণ মানুষের প্রকৃত পরিচয় কথায় নয়, তার কাজেই ফুটে ওঠে।”
Leave a Reply